এদিনও আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যরা কালো পোশাক পরে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাঁদের গলায় ঝোলানো রয়েছে প্ল্যাকার্ড। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পরিজনদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সেখানে চিকিৎসকের ব্যবস্থা রয়েছে এবং কোনও শারীরিক সমস্যা হলে সঙ্গে সঙ্গে দু’জন চিকিৎসককে দেখানো যেতে পারে। সেখান থেকেই শুরু হল সাংবাদিক সম্মেলন।
মমতা বলেন, “আমার পিছনে যাঁরা বসে আছেন তাঁরা সবাই এসআইআর আক্রান্ত। আমরা আরও বেশি লোক আনতে পারতাম। দিল্লির সাংবাদিকরা জানেন না বাংলায় আদতে কী চলছে। সংসদেও কী চলছে দেখুন না, আমি সদস্য নই সংসদের কিন্তু যা দেখছি, তাতে দেখুন না বিরোধীদের কী অবস্থা। আমরা তাই ভাবলাম আপনারা সরাসরি নিজের চোখে দেখে নিন। আমরা জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে মানুষদের নিয়ে এসেছি।”
advertisement
তাঁর কথায়, আমি ৬ বার চিঠি লিখেছি, আমাদের ডেলিগেশন গিয়ে দেখা করেছে— কিন্তু কোনও সুরাহা হয় নি। সর্বোচ্চ আদালতের উপর পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে, তাই সে নিয়ে কিছু বলব না। কিন্তু গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে আমার প্রথম বক্তব্য হল, ২০০২ সালে বাংলায় শেষবার এসআইআর করা হয়েছিল। তারপর ২৪ বছর পর হঠাৎ করে নির্বাচনের আগে এসআইআর করা কেন?”
তিনি আরও বলেন, “এই মাসেই হয়তো নির্বাচন ঘোষণা করবে কমিশন। তার আগে মাত্র কয়েকমাস আছে, তার আগে এত হুড়োহুড়ি করে এসআইআর করা কেন? যে চারটি রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে, তার মধ্যে অসমে এসআইআর হচ্ছে না। কারণ ওখানে ডবল ইঞ্জিন সরকার! এআই য়ের মিসইউজ করে পক্ষপাতিত্ব করে একধারে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছে!”
মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, বিএলও-দের পরিবারের সদস্যরাও সেখানে উপস্থিত রয়েছেন এবং তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে হুমকির মুখে রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, লাগাতার চাপ ও আতঙ্কের জেরে কেউ হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন, আবার কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। সেই পরিবারের সদস্যদেরও হাত তুলতে বলেন তিনি।
এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, এসআইআর সংক্রান্ত নোটিস দেওয়া হয়েছে এবং ট্রাক ভর্তি করে বেআইনিভাবে গুরুত্বপূর্ণ নথি অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে মাইক্রো অবজারভার নিয়োগ করার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গোটা প্রক্রিয়াই গণতন্ত্র ও নির্বাচনী ব্যবস্থার পক্ষে ভয়ঙ্কর দৃষ্টান্ত।
উল্লেখ্য, এখন দিল্লিতে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর ইস্যুতে রাজধানীতে প্রতিবাদে সরব তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন দলের সাংসদেরা। সোমবার এই ইস্যুতেই নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে এক দফা ‘সংঘর্ষে’ জড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
দিল্লির নির্বাচন সদনে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার-সহ অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের বৈঠক শুরু থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বৈঠকের মধ্যেই দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি হয় বলে সূত্রের খবর। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠক শেষ পর্যন্ত মাঝপথেই ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল প্রতিনিধিরা।
নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বৈঠকের ভিতরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে অপমান ও অসম্মান করা হয়েছে। সেই কারণেই তাঁরা বৈঠক চালিয়ে যাওয়া সম্ভব মনে করেননি। এসআইআর নিয়ে কমিশনের অবস্থানের বিরুদ্ধেই তাঁদের এই প্রতিবাদ বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
