আদালতের নির্দেশের পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন কেজরি৷ বলেন, এতদিন ধরে নির্দোষ হওয়ার যে দাবি তিনি করে আসছিলেন, তা-ই প্রমাণিত হয়েছে আদালতের এদিনের রায়ে৷
কেজরিওয়াল বলেন, ‘‘আমি দুর্নীতিগ্রস্ত নই৷ আদালত বলেছে, কেজরিওয়াল এবং মণীশ সিসোদিয়া সৎ৷’’ দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘‘বিজেপি আমাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনেছে৷ কিন্তু, আদালত আমাদের প্রত্যেককে বেকসুর খালাস করেছে৷ সত্যের জয় হয়েছে৷’’
advertisement
গোটা ঘটনার পিছনে বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন, ‘‘আমরা সবসময় বলেছি সত্যের জয় হবে৷ ভারতীয় বিচারব্যবস্থার উপরে আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে৷ (কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) অমিত শাহ এবং (প্রধানমন্ত্রী) নরেন্দ্র মোদি একসঙ্গে মিলে আম আদমি পার্টি-কে শেষ করতে বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করেছিল, আর দলের ৫ বড় নেতাকে জেলে ভরেছিল৷’’
সবশেষে তাঁর মন্তব্য, ‘‘একজন মুখ্যমন্ত্রীকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে জেলে ভরা হয়েছিল৷ কেজরিওয়াল দুর্নীতিগ্রস্ত নয়৷ আমি শুধুমাত্র জীবনে সততাই অর্জন করেছি৷’’
শুক্রবার দিল্লি আদালতের বিশেষ বিচারক জিতেন্দ্র সিং মামলার রায় দেওয়ার সময় জানান, প্রমাণের অভাবে দিল্লি আবগারি দুর্নীতি কাণ্ডে অভিযুক্ত ২৩ জনকেই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ ‘খুঁজে’ পায়নি সিবিআই৷ আদালত বলেছে যে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে কোনও মামলা তৈরি হয়নি এবং তদন্তকারী সংস্থার তরফে আনা মামলায় উল্লেখযোগ্য ত্রুটি লক্ষ্য করা গেছে।
শুধু তাই নয়, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে কোনও জোরাল প্রমাণ ছাড়াই মামলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে৷ আদালত জোরের সঙ্গে জানিয়েছে, সুবিচার করার জন্য সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন এবং মৌলিক৷ এক্ষেত্রে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলি আনা হয়েছিল তা সিবিআই কর্তৃক পেশ করা প্রমাণাদি দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় না৷
সিবিআই-এর অভিযোগ ছিল, দিল্লি আবগারি নীতিতে ‘বিশেষ কিছু’ পরিবর্তন আনতে ‘দক্ষিণের লবি’ ১০০ কোটি টাকা দিয়েছিল দিল্লির তৎকালীন শাসকদলকে৷ এই মামলায় ২০২২ সালে প্রথম চার্জশিট ফাইল করেছিল সিবিআই৷ তারপরে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে কেজরিওয়াল এবং সিসোদিয়ার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়৷
