বর্তমানে তাঁকে আইসিইউ থেকে সরিয়ে একটি সাধারণ বেডে রাখা হয়েছে, সেখানে চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর উপর নজর রাখছে। মৃত্যুর প্রক্রিয়াকে কষ্টমুক্ত করতে তাঁর মস্তিষ্ককে শান্ত রাখা এবং শারীরিক ব্যথা কমানোর জন্য বিশেষ ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের করিডরে নেমে আসা নীরবতা যেন গত ১৩ বছর ধরে চলা এক আইনি ও মানবিক সংগ্রামের শেষ অধ্যায়কে নির্দেশ করছে।
advertisement
২০১১ সালে একটি বিল্ডিং-এর চতুর্থ তলা থেকে পড়ে যাওয়ার ফলে তাঁর মাথা এবং মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে। এই দুর্ঘটনার পর তিনি পার্মানেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট (PVS)-এ চলে যান, যার অর্থ তিনি জীবিত থাকলেও তাঁর চেতনা সম্পূর্ণ লোপ পায়। গত ১৩ বছর ধরে তিনি সম্পূর্ণভাবে শয্যাশায়ী ছিলেন।
তাঁর বাবা-মা তাঁকে সুস্থ করার জন্য তাঁদের সমস্ত সঞ্চয় ব্যয় করেছিলেন, কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতার সামনে কোনও অলৌকিক কিছু ঘটেনি। শেষ পর্যন্ত অসহায় হয়ে এবং ছেলেকে তিলে তিলে কষ্ট পেতে দেখে তাঁর পরিবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। চেষ্টা করা হচ্ছে তাঁকে যেন এই অসহনীয় ও অর্থহীন যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেওয়া যায়!
আরও পড়ুন- অবসরের ৯ দিন আগে এক সরকারি কর্তার পদক্ষেপ নাড়িয়ে দিল গোটা দেশকে
ভারতে প্যাসিভ ইচ্ছামৃত্যু নিয়ে বিতর্কের সূচনা হয়েছিল অরুণা শানবাগ-এর মামলার মাধ্যমে। কিং এডওয়ার্ড মেমোরিয়াল হাসপাতাল-এর নার্স অরুণা ৪২ বছর ধরে ভেজিটেটিভ স্টেটে ছিলেন। ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর বন্ধু পিঙ্কি বিরানি-র আবেদন শুনে প্রথমবার কিছু শর্তসাপেক্ষে প্যাসিভ ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দেয়। যদিও অরুণার মৃত্যু ২০১৫ সালে নিউমোনিয়ার মতো স্বাভাবিক কারণে হয়, তাঁর মামলা ভারতে ‘লিভিং উইল’ এবং মর্যাদার সঙ্গে মৃত্যুর অধিকার নিয়ে আইনি ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
