হঠাৎ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার চাষিরা। কাটোয়া ১ ও কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের একাধিক গ্রামের চাষের জমিতে কোমর সমান জল। খড়ি নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ায় আশপাশের জমি প্লাবিত হয়েছে। তার উপর শিলাবৃষ্টির ধাক্কায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। চাষি আনারুল শেখ বলেন, ” হঠাৎ বৃষ্টিপাতে আমাদের চরম ক্ষতি হয়েছে। জলের তলায় সব জমি। এখন যে কী করব, বুঝে উঠতে পারছি না।” কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকের করজগ্রাম অঞ্চলের বাঁধমুড়ো এবং সুদপুরের টিকরখাঁজি এলাকায় পেঁয়াজের জমি সম্পূর্ণ জলের নীচে। অন্যদিকে কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের পলসোনা অঞ্চলের কোয়ারাডাঙা, শিলা-সহ একাধিক গ্রামে চাষিরা বাধ্য হয়ে জমিতে নৌকা নামিয়ে পেঁয়াজ তুলছেন। কোথাও আবার বড় গামলা ভাসিয়ে যা বাঁচানো সম্ভব, তা তোলার চেষ্টা চলছে।
advertisement
রহমত শেখ নামের এক চাষি বলেন, ” আমি লোন নিয়ে চাষ করেছিলাম। আমার বিশাল ক্ষতি হল! এখন যে কী করব, বুঝে উঠতে পারছি না।” শুধু পেঁয়াজ-রসুনই নয়, ব্যাপক ক্ষতির মুখে বোরো ধানও। আলমপুর, গোয়াই, কড়ুই, গীঁধগ্রাম-সহ একাধিক অঞ্চলে ধানের জমি শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাষিদের দাবি, সবে ধানের থোঁড় বেরোতে শুরু করেছিল। এই সময় শিলাবৃষ্টিতে ধানের শীষ ভেঙে গিয়েছে, ফলে ফলনের আশা প্রায় শেষ। সব মিলিয়ে এক দিনের দুর্যোগেই কাটোয়ার বিস্তীর্ণ এলাকায় কৃষির চিত্র ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।