প্রায় ১০ জন যুব কংগ্রেস কর্মী এই বিক্ষোভে অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৪-৫ জনকে আটক করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, শুক্রবার কিউআর-কোড যুক্ত পাস ব্যবহার করে এই সম্মেলনে প্রবেশ করেছিলেন অভিযুক্তরা। মঞ্চের সামনে গিয়ে আচমকাই নিজেদের জামা খুলে প্রতিবাদ দেখাতে থাকেন ওই ১০ প্রতিবাদী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ করা হয় পুলিশের পক্ষ থেকে।
advertisement
এই ঘটনার সঙ্গে অনেকেই ২০০২ সালে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জামা খুলে ওড়ানোর ছবির মিল খুঁজে পেয়েছেন ৷ তবে ক্রিকেটের ‘মক্কায়’ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সেই ‘সাহসী’ পদক্ষেপ অনেকে যেমন সমালোচনা করেছিলেন, তেমনি অনেকেই আবার মনে করেছিলেন ইংরেজদের ডেরায় গিয়ে সেদিন যোগ্য জবাবই দিয়েছিলেন সৌরভ ৷ এআই সামিটে যুব কংগ্রেসের কর্মীদের এই ঘটনায় কিন্তু বিজেপির পাশাপাশি সমালোচনায় সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলিও ৷ তাঁদের প্রত্যেকেরই মত, এই ধরনের মঞ্চে এমন দৃশ্য মোটেই কাঙ্খিত নয় ৷
ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে কী ঘটেছিল?
২০০২ সালের ১৩ জুলাই লর্ডসের ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে এক বাঙালি ক্রিকেটারের দাপট দেখেছিল গোটা বিশ্ব। উড়েছিল জার্সি। ন্যাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে সেদিন ওই বাঙালি ক্রিকেটারের দাপট ক্রিকেট বিশ্বের মানচিত্রে ভারতের একটা স্বতন্ত্র্য জায়গা করে দিয়েছিল। আর এই ঘটনার নেপথ্যে যিনি, আর কেউ নন, সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। আসুন তাহলে একটু ফ্ল্যাশব্যাকে ফিরে যাই। ওই বছরই ভারতের মাটিতে ৬ ম্যাচের একদিনের সিরিজ খেলতে এসেছিল ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। এই সিরিজে ভারত ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। শেষ ম্যাচটা ছিল মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। জয়ের জন্য শেষ ওভারে ভারতের দরকার ছিল মাত্র ১১ রান। ব্যাট করছিলেন হেমাং বাদানি এবং অনিল কুম্বলে। অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের এই ওভারের প্রথম তিনটে ডেলিভারিতে ৫ রান চলে আসে। কিন্তু, এরপর কুম্বলে এবং জাভাগল শ্রীনাথ আউট হয়ে যাওয়ার কারণে শেষপর্যন্ত ভারত আর এই ম্যাচে জিততে পারেনি। ম্যাচের সেরা ফ্লিনটফ আচমকাই নিজের জার্সি খুলে ফেলেন এবং গোটা মাঠ দৌড়তে শুরু করেন। ব্যাপারটা ভাল চোখে নেননি ভারতীয় ক্রিকেট সমর্থকেরা। এরপর ইংল্যান্ডের মাটিতে ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি খেলতে যায় সৌরভের ভারত। লর্ডসের ব্যালকনিতে বসে একমনে নিজের নখ কামড়ে যাচ্ছিলেন সৌরভ। জাহির খান এবং মহম্মদ কাইফ শেষ রানটা নিতে না নিতেই সৌরভ কার্যত চেয়ার ছেড়ে লাফিয়ে ওঠেন। এরপর জার্সিটা খুলে বনবন করে ঘোরাতে থাকেন হাওয়ায় ! ততক্ষণে ক্যামেরা ধরেছে ফ্লিনটফের ক্লোজআপ। তিনি নিজের মুখ কার্যত লুকোতে পারছিলেন না। একই অবস্থা ছিল ইংল্যান্ড অধিনায়ক নাসের হুসেনেরও। সকলেই বুঝতে পারছিলেন, যে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ঠিক কোন কারণে এমন কাজটা করলেন। এরপর অনেকের মুখেই বলতে শোনা গিয়েছে, ১৯৪৭ সালে ভারত হয়ত ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্তি পেয়েছিল ঠিকই। কিন্তু, ২০০২ সালে ‘বিজয়কেতন’ উড়িয়েছিলেন সৌরভ।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। দলের আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স হ্যান্ডেলে এই ঘটনাকে ‘জাতীয় লজ্জা’ বলে মন্তব্য করেন। ঘটনার নিন্দা করেছেন বিরোধী দলের একাধিক নেতারাও ৷ তাঁরা প্রত্যেকেই ট্যুইট করে নিজেদের মতামত জানিয়েছেন ৷
অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা কিউআর-কোডযুক্ত পাস ব্যবহার করে অনুষ্ঠানের ভেন্যুতে প্রবেশ করেন। পরে আচমকা প্রতিবাদ শুরু করেন। তড়িঘড়ি পুলিশের তরফে ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং বিক্ষোভকারী কর্মীদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের তিলক মার্গ থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
