ঝাড়খণ্ডের হাই কোর্ট বলেছে, স্বামীর অনুমতি ছাড়া স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি দেখা, সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং শারীরিক ও যৌন নির্যাতন হিন্দু বিবাহ বিধি অনুযায়ী অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট বলেছে, এই ধরনের আচরণ স্বামীর দ্বারা স্ত্রীর চরিত্র হননের সমান।
advertisement
বিচারপতি সুজিত নারায়ণ প্রসাদ এবং বিচারপতি অরুণ কুমার রাই-এর ডিভিশন বেঞ্চে একজন মহিলা Family Courts Act-এর Section ১৯(১) অনুযায়ী আপিল করেছিলেন। ওই মহিলা Family Court-এর রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন, যেখানে নির্যাতনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন খারিজ হয়।
আরও পড়ুন: ভোটের মুখে শুধু বন্দে ভারত নয়, অমৃত ভারত-সহ একগুচ্ছ ট্রেন পাচ্ছে বাংলা! রইল তালিকা
জানা গিয়েছে ওই দুই জনের বিয়ে হয়েছিল ১৩ মার্চ, ২০২০ সালে। বিয়ের পর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসঙ্গে থাকতেন। স্ত্রী অভিযোগ করেন, বিয়ের পরের দিন যখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, স্বামী তার মোবাইল ফোনে থাকা কিছু আপত্তিকর ছবি Google Drive-এ পেয়ে যান। ওই ছবিগুলি স্ত্রী মুছতে ভুলে গিয়েছিলেন। তার দাবি, স্বামী সেই ছবি নিজের ফোনে নিয়ে নেন এবং পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করার হুমকি দেন।
স্বামী অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং বলেন, বিয়ের পর স্ত্রী অন্য একজনের সঙ্গে রাত জেগে কথা বলতেন। তিনি স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করলে, স্ত্রী স্বীকার করেন যে তিনি অবৈধ সম্পর্কে ছিলেন এবং সেটা শেষ করবেন না। ঝাড়খণ্ড হাই কোর্ট আবারও বলেছে, অত্যাচার শারীরিক বা মানসিক, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃত হতে পারে এবং এটা আপেক্ষিক ও বিষয়ভিত্তিক, প্রতিটি ঘটনার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচার করতে হয়। আদালত বলেছে, অত্যাচার নির্ধারণে সম্মান খুব গুরুত্বপূর্ণ, এবং স্বামীর আচরণে স্ত্রীর সম্মান ক্ষুণ্ণ হলে সেটা অত্যাচার হিসেবে গণ্য হবে।
ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, স্বামী ওই আপত্তিকর ছবি তার পরিবারের সদস্যদের দেখিয়েছিলেন, যার ফলে স্ত্রী তাদের কাছে অপমানিত হন। সেই সঙ্গে আদালত আরও বলেছে, এই আচরণ স্ত্রীর চরিত্র হননের সমান, এবং এটা স্পষ্টভাবে মানসিক অত্যাচার।
