সারাবছর জলই তাঁদের সঙ্গী। জলে ভেসেই মাছ, কাঁকড়া ধরে চলে ওঁদের সংসার। তাই মৎস্যজীবীদের দুর্গাপুজোর আনন্দে (Fishermen in Durga Puja ) জলকে বাদ দিয়ে কিছু করা কি সত্যিই সম্ভব! তাই টানা বৃষ্টি, জমা জল সঙ্গী করেই দিব্যি চলছে মণ্ডপ তৈরির কাজ।
সুন্দরবনের ক্যানিং-এক নম্বর ব্লকের মাতলা অঞ্চলের রাজারলাট সর্বজনীন দুর্গোৎসব এ বছর ৩৯ তম বর্ষে পদার্পণ করল। নিউস্টার ক্লাবের পরিচালনায় এবছর এই মণ্ডপে থিম হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে ‘পাতালপুরী মহাকাল’। রাজারলাট সার্বজনীন দুর্গাপুজো শুধু সুন্দরবন নয়, স্থানীয় এলাকার পাশাপাশি অন্যান্য শহরতলিতেও বেশ পরিচিতি অর্জন করেছে। শাস্ত্রীয় রীতিনীতি মেনেই, নিষ্ঠা সহকারে এই দুর্গাপুজো করা হয়ে থাকে। তবে এবার শুধু মণ্ডপই নয়, প্রতিমাও তৈরি করা হচ্ছে থিমের উপর।
advertisement
আরও পড়ুন -এত দিনে প্রথম সর্বজনীন পুজো গ্রামে, প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন আনন্দে অধীর গ্রামবাসীরা
প্রতিমা তৈরি করছেন মৃৎশিল্পী গণেশ বায়েন। প্রতিমার উচ্চতা হচ্ছে প্রায় ২০ ফুট। বিগত বছরগুলির মতো এ বছরও, শহুরে থিমের পুজোর সঙ্গে পাল্লা দিতে তৈরি হচ্ছে সুন্দরবনের পুজো কমিটিগুলি । রাজারলাট গ্রামে বেশির ভাগ বাসিন্দাই মৎস্যজীবী। সুন্দরবনের নদী, খাল, বিলে মাছ কাঁকড়া ধরে তাদের কোন মতে সংসার চলে। করোনাকালীন পরিস্থিতিতে দীর্ঘ লকডাউন এর ফলে সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা এই সম্প্রদায়ের বহু মানুষের। আর এই সব কিছুকে উপেক্ষা করে দুঃখ-কষ্ট ভুলে পুজোর কয়েকদিন তারা মেতে উঠবেন আনন্দ উৎসবে। প্রায় ৩০ জন কর্মী নিয়ে বাঁশ, বাটাম, প্লাইউড বোর্ড, চট, ত্রিপল, দড়ি, ফাইবার, সিমেন্ট সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করে গড়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপ।
আরও পড়ুন - সাড়ে ৩০০ বছরের রীতি মেনে দুর্গাপুজো, শিবপুরের পাল বাড়িতে ১৫ দিন ধরে চলে চণ্ডীপাঠ!
রাজারলাট সর্বজনীন দুর্গা উৎসব কমিটির সম্পাদক শুভজিৎ মণ্ডল জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে খুব সমস্যার মধ্যেই মণ্ডপ তৈরির কাজ চলছে। শিল্পীরা ঠিক মতো কাজ করতে পারছেন না, জমে থাকা জলকাদার কারণে । সম্পূর্ণ কোভিড বিধিনিষেধ মেনেই করা হবে পুজো । থাকবে মাস্ক । বিতরণ করা হবে স্যানিটাইজার । মণ্ডপের ভিতর একসঙ্গে ২০ জনের বেশি প্রবেশ করানো হবে না বলেও জানানো হয় পুজা কমিটির পক্ষ থেকে।
পুরুষদের পাশাপাশি মহিলারাও সমান তালে পুজোর কাজে অংশ নেন। সংসারের সমস্ত অভাব অনটনকে সরিয়ে রেখে, রাজারলাট এলাকার মৎস্যজীবীরা পুজোর কয়েক দিন মেতে ওঠেন শারদ উৎসবের আনন্দে।
প্রতিবেদন - রুদ্রনারায়ণ রায়
