এই সীমান্তবর্তী গ্রামগুলিতে এমন বহু মানুষ রয়েছেন, যাঁরা বসবাস করেন পশ্চিমবঙ্গে, অথচ তাঁদের চাষের জমি রয়েছে ওড়িশা রাজ্যে। আবার উল্টো চিত্রও দেখা যায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এভাবেই চলছে জীবন। চাষের মরশুম এলেই রাজ্যের সীমারেখা উপেক্ষা করে কৃষকরা এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যান মাঠে কাজ করতে। মাঝখানে রয়েছে শুধু একটি অদৃশ্য প্রশাসনিক বিভাজন।
advertisement
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ওড়িশা সংলগ্ন সীমানায় সুবর্ণরেখা নদীর তীরবর্তী এলাকায় রয়েছে সোনাকোনিয়ার বাইপাটনা, সোলপাট্টা, মাটিবিরুয়া-সহ একাধিক গ্রাম। এই গ্রামগুলিই কার্যত বাংলার শেষ প্রান্ত। সুবর্ণরেখা নদী বাংলার বিভিন্ন ব্লকের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাইপাটনা এলাকায় এসে ডানদিকে বাঁক নিয়ে ঢুকে পড়ে ওড়িশার লক্ষণনাথ এলাকায়।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, একসময় পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন থানা এলাকা ওড়িশা শাসকদের অধীনে ছিল। সেই সময় থেকেই এই গ্রামগুলির সঙ্গে ওড়িশার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পরবর্তীতে বাংলা-ওড়িশা বিভাজনের ফলে বহু মানুষের জমি প্রশাসনিকভাবে অন্য রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে জমি কেনাবেচার কারণেও অনেকের চাষযোগ্য জমি থেকে যায় ওড়িশায়।
বাংলার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এই গ্রামগুলিতে ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার যে বৈচিত্র্য, তা নিঃসন্দেহে আলাদা করে চোখে পড়ার মতো। সীমান্ত এখানে বিভাজন নয় বরং সহাবস্থানের এক অনন্য গল্প।





