ইতিহাসবিদদের মতে এবং পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ কমিশনের তথ্য অনুসারে, গোপগড় ও গোপ প্রাসাদ পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি এলাকায় অবস্থিত। ঐতিহাসিক ধারণা অনুযায়ী, গোপগড়ের উৎপত্তি বৌদ্ধ যুগে, সম্ভবত দশম শতাব্দীতে। সে সময় এই অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রভাব ছিল প্রবল। পরবর্তীকালে বৌদ্ধ প্রভাব হ্রাস পেলে অঞ্চলটি হিন্দু পৌরাণিক ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। জনশ্রুতি রয়েছে, গোপগড় মহাভারতের পৌরাণিক বিরাট রাজ্যের অংশ ছিল। বিরাট রাজা প্রাচীন দন্তপুর বা বর্তমান দাঁতনের পাশে ওড়িশার রায়বানিয়ার শাসক ছিলেন বলেও অনেকে মনে করেন।
advertisement
মধ্যযুগে মুসলিম শাসনামলে গোপগড় দুর্গ অধিগৃহীত হয়। ঐতিহাসিক গ্রন্থ ‘আইন-ই-আকবরি’-তে মেদিনীপুরের দুটি দুর্গের উল্লেখ পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদদের একাংশের মতে, তার একটি বর্তমান মেদিনীপুর কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার এবং অপরটি গোপগড়।ঊনবিংশ শতাব্দীতে তেলিনীপাড়ার জমিদার ব্যানার্জি পরিবার পুরনো দুর্গের ধ্বংসাবশেষ ব্যবহার করে গোপগড় প্রাসাদ নির্মাণ করেন। সেই প্রাসাদের অবশেষ আজও পার্কের ভিতরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
বর্তমানে গোপগড় এলাকায় একটি ঐতিহ্যবাহী উদ্যান গড়ে তোলা হয়েছে। প্রতিদিন বহু মানুষ এখানে বিনোদনের উদ্দেশ্যে আসেন, কিন্তু অনেকেই জানেন না এই স্থানের গভীর ঐতিহাসিক তাৎপর্য। সঠিক সংরক্ষণ ও সচেতনতার মাধ্যমে গোপগড় শুধু বিনোদন কেন্দ্র নয়, বরং মেদিনীপুরের গৌরবময় ইতিহাসের জীবন্ত দলিল হয়ে উঠতে পারে।
রঞ্জন চন্দ





