পেশায় পোস্ট অফিসের কর্মী পরেশ ছোটবেলা থেকেই লিখতে ভালবাসতেন। কিন্তু তাঁর লক্ষ্য ছিল, তথাকথিত ‘শুদ্ধ’ সাহিত্যের সীমানা ছাড়িয়ে মানুষের মনের গহীনে পৌঁছানো। সীমান্তবর্তী প্রত্যন্ত গ্রামে থাকার সুবাদে তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম, তাঁদের হাসি-কান্না আর অপ্রাপ্তির গল্প। পরেশ বেরা মনে করেন, গালভরা কঠিন শব্দ অনেক সময় সাধারণ মানুষের কাছে সাহিত্যের রস পৌঁছে দিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই গ্রামের মানুষের সহজ-সরল চাওয়া-পাওয়া আর তাঁদের একান্ত নিজস্ব ঘরোয়া বুলিকেই তিনি কবিতার অলঙ্কার করেছেন।
advertisement
ইতিমধ্যেই পরেশ বেরার এই মেঠো ভাষায় লেখা কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে, যা স্থানীয় স্তরে বেশ সমাদর কুড়িয়েছে। তাঁর কবিতার ছত্রে ছত্রে উঠে আসে সীমান্ত এলাকার মানুষের যাপনের ছবি। কবি নিজেই জানাচ্ছেন, “আমি চেয়েছিলাম আমার কথাগুলো যেন একেবারে সাধারণ মানুষের মুখের কথা হয়ে ওঠে। তাঁরা যেন খুব সহজেই নিজের জীবনের প্রতিচ্ছবি আমার কবিতার মধ্যে খুঁজে পান।” পেশাগত দায়বদ্ধতা সামলে অবসর সময়টা শব্দ আর ছন্দের চর্চাতেই বুঁদ হয়ে থাকেন পরেশ বেরা । বড় বড় সাহিত্য সভার জৌলুস নয়, গ্রাম বাংলার গন্ধ মাখা সহজ ভাবনার জয়গান গেয়েই এগিয়ে চলেছেন পরেশ বেরা। তাঁর এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার পাঠক সমাজও।