পান্তা ভাত কী: পান্তা ভাত মূলত বাসি খাবার। রাতে ভাত বেশি হয়ে গেলে তাতে জল ঢেলে রেখে দেওয়া হয়। সেটাই হবে পরের দিনের জলখাবার। সারারাত এভাবে থাকার ফলে ভাত গেঁজিয়ে ওঠে। সেটাই হয়ে ওঠে জিভে জল আনা পান্তা। এর সঙ্গে সরষের তেল মিশিয়ে আলু সেদ্ধ, আচার, কাঁচালঙ্কা, পেঁয়াজ দিয়ে খাওয়া হয়। পান্তা ভাত পেট ঠান্ডা রাখে। তবে শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয়, ওড়িশা এবং অসমেও পান্তা ভাত সমান জনপ্রিয়।
advertisement
আরও পড়ুন: বর্ষায় দাড়ি ভালো রাখতে হিমশিম, খালি চুলকোচ্ছে, এই সহজ টিপস মেনে চললেই কামাল!
পান্তা ভাতের উপকারিতা: ভাত সারারাত ভিজিয়ে রাখার ফলে কার্বোহাইড্রেট ভেঙে দেয় এবং সহজেই হজম হয়। পান্তা ভাতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে। নিয়মিত খেলে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, এটা কোলেস্টেরল-মুক্ত এবং লো-ক্যালোরি খাবার। তাই ওজন কমাতে চাইলে ডায়েটে এই পদ রাখাই যায়। পান্তা খাওয়ার সেরা সময় হল বিকেল। কারণ এটা শরীরকে ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। এমনকী এটা বুক জ্বালা এবং আলসার থেকেও মুক্তি দেয়।
আরও পড়ুন: ফিল্টার্ড ওয়াটার না কি ফোটানো জল? শরীরের জন্য কোনটা ভাল?
পান্তা ভাত তৈরির পদ্ধতি: একটা পাত্রে ভাত নিয়ে জল ঢেলে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে সমস্ত ভাত যেন জলে ডুবে থাকে। এবার সেটা চাপা দিয়ে সারারাত রেখে দিতে হবে। পরদিন জল থেকে সব ভাত ছেঁকে নিয়ে রাখতে হবে আলাদা পাত্রে। এবার তাতে সরষের তেল এবং স্বাদ মতো নুন মিশিয়ে দিতে হবে। এবার কাঁচালঙ্কা আর পেঁয়াজ দিয়ে খাওয়া শুরু করলেই হল। পান্তা ভাতের সঙ্গে আচারও দারুণ লাগে। একটু আলুভাজা আর মাছভাজা রাখলেও ব্যাপারটা জমে যাবে। বিহারিরা একে বলে বাসি ভাত। তাঁরা শুকনো লঙ্কা ভাজা, পাঁপড় আর কাঁচা আমের চাটনির সঙ্গে পান্তা ভাত খান। ওড়িশায় এর নাম পাখালো। পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে পেট ঠান্ডা রাখতে পান্তা ভাত খাওয়ার চল রয়েছে।
