বেশ কয়েক বছর আগে সামান্য একটি ঢিবি খুঁড়তেই ইতিহাসের আলোয় আসে মোগলমারির বৌদ্ধ মহাবিহার। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার এই প্রত্নক্ষেত্র আজ শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সারা ভারত তথা বিশ্বের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের কাছেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন বহু পর্যটক ও ইতিহাসপ্রেমী মানুষ এখানে ভিড় করেন। এমনকি ছোটদের ইতিহাসের পাঠ্যবইয়েও স্থান পেয়েছে মোগলমারি বৌদ্ধবিহারের কথা।
advertisement
মোগলমারিতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে দেওয়ালে খোদাই করা একাধিক মূর্তি। কিন্তু এই মূর্তিগুলির ইতিহাস কী? ইতিহাস গবেষকদের মতে, এগুলি আসলে স্টাকো মূর্তি। মনে করা হয়, তৎকালীন সময়ে মহাবিহারের চারপাশের দেওয়াল অলংকরণের জন্য বিভিন্ন বৌদ্ধ দেবদেবীর স্টাকো মূর্তি নির্মাণ করা হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে অনেক মূর্তি ধ্বংস হয়ে গেলেও এখনও বেশ কয়েকটি মূর্তি অক্ষত অবস্থায় রয়েছে।
তবে প্রাকৃতিক ক্ষয়ের কারণে এই মূর্তিগুলিও ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে। সেই কারণেই বর্তমানে সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, মোগলমারি বৌদ্ধবিহারে যে মহাবিহার ও বিহারিকা আবিষ্কৃত হয়েছে, তার মধ্যে শুধুমাত্র মহাবিহার অংশেই এই ধরনের স্টাকো মূর্তির উপস্থিতি দেখা যায়।
আরও পড়ুন : ভারতের কোন শহরকে বলা হয় ‘মিষ্টির রাজধানী’? জানেন শুধু জিনিয়াসরাই!…চমকে যাবেন সঠিক উত্তর শুনলে!
ইতিহাসবিদদের মতে, এই মূর্তিগুলি পঞ্চম ও ষষ্ঠ শতাব্দীর শিল্পভাবনা ও নান্দনিক চেতনার পরিচয় বহন করে। প্রতিটি মূর্তি সেই সময়ের ধর্মীয় বিশ্বাস, শিল্পরীতি ও সামাজিক ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। যেমন প্রতিটি ইটে লুকিয়ে আছে অতীতের গল্প, তেমনই এই স্টাকো মূর্তিগুলি আজও এককালের বৌদ্ধ শিল্প ও সভ্যতার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।