জিয়াগঞ্জের পূর্বনাম ছিল ‘বালুচর’। এই বালুচরে বসেই বয়ন-শিল্পীরা শাড়ির সুন্দর জমির উপর কোণে ও আঁচলে বিচিত্র নকশার কাজে অলঙ্কারের অভিনবত্বে, বয়ন নৈপুণ্যের উজ্জ্বলতায় কলা রসিকদের প্রীতি ও শ্রদ্ধা আকর্ষণ করেছিল। ১৬২০ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজরা রেশম ব্যবসার জন্য তাঁদের দুই প্রতিনিধি হিউজেস ও পার্কারকে পাঠিয়েছিলেন মুখসুদাবাদ মাসুমাবাজার (তখনও মুর্শিদাবাদ নামকরণ হয়নি) ও সৈদাবাদে। ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসাবে কাশিমবাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিত বলে দেয়, বালুচরে ওই সময় থেকেই রেশম শিল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। বয়ন শিল্পীদের মধ্যেও চলেছিল নিভৃত সাধনা। ‘বালুচরে’ তৈরি শাড়িরই নাম ‘বালুচরী’।
advertisement
ঢাকার মসলিনের মতো জিয়াগঞ্জের বালুচরী শাড়ি ছিল বয়ন শিল্পসৌন্দর্যের এক বিস্ময়কর নিদর্শন। বালুচর সন্নিহিত মীরপুর, বাহাদুরপুর, দেবীপুর, সাধকবাগ, আমডহর, বেলেপুকুর, রণসাগর, আমাইপাড়া গ্রামগুলিও ছিল তখন বয়নের কাজে নিয়োজিত। ২০১১ সালে জিআই তকমা পায় এই বালুচরী শাড়ি। এখনও জিয়াগঞ্জে রেশমশিল্পীদের হাতে সূক্ষ্ম কাজে তৈরি হয় নজরকাড়া বালুচরী সিল্ক শাড়ি। এই রেশমশিল্পের উপর নির্ভরশীল তাঁরা। বালুচরী বুনেই হয় এই মানুষগুলির দিন গুজরান। এই সমস্ত শিল্পীদের হাতে বোনা বালুচরী সিল্ক শাড়ি দেশ ছাড়িয়ে পাড়ি দেয় পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায়। পূর্বপুরুষদের ফেলে আসা শিল্পকে আঁকড়ে ধরেই জীবন নির্বাহ করছেন তাঁরা। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকে পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন শিল্পীরা।
আরও পড়ুন: এই খাবারগুলির সঙ্গে ভুলেও খাবেন না ডিম! শরীরের জন্য চরম ক্ষতিকারক! হিতে বিপরীত
সংসার খরচ থেকে শুরু করে সন্তানদের লেখাপড়া সবটাই নির্ভর করে এই শিল্পের উপর। তাই নানা সমস্যা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে মরিয়া শিল্পীরা। তবে অভিযোগ, সরকারি কোনও ভাতা তাঁরা পান না। তাই তাঁদের আর্জি, রেশমশিল্পীদের জন্য সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করা হোক।