আসলে প্রযুক্তির উন্নতির কারণে ক্যানসার রোগীদের আরোগ্য লাভের সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে গিয়েছে। চিকিৎসায় আরোগ্যলাভের পরে যদি ক্যানসার রোগী সন্তানধারণ করতে চান, তা-হলে কি সেটা সম্ভব। এই বিষয়েই আলোচনা করছেন কলকাতা বিড়লা ফার্টিলিটি এবং আইভিএফ সেন্টারের কনসালট্যান্ট ও সেন্টার হেড ডা. সৌরেন ভট্টাচার্য (Dr. Souren Bhattacharjee, Consultant, and Centre Head, Kolkata Birla Fertility & IVF centre, Kolkata)।
advertisement
আসলে এক জন ক্যানসারজয়ী যদি মা হতে চান, তাহলে সন্তানধারণের ক্ষেত্রে ফার্টিলিটি প্রিজারভেশনের জন্য সঠিক পরিকল্পনা এবং প্রস্তুতির মাধ্যমে সঠিক পরামর্শেরও প্রয়োজন রয়েছে। আর এই ফার্টিলিটি প্রিজারভেশন হল সেই প্রক্রিয়া যেখানে ডিম্বাণু, শুক্রাণু অথবা রিপ্রোডাকটিভ কলাকোষ সংরক্ষণ করা হয়। যার ফলে কেউ চাইলে ভবিষ্যতেও সন্তানধারণ করতে সক্ষম হবেন। এক সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে, ৪০ বছরের নীচে ৮০ শতাংশেরও বেশি মহিলা স্তন ক্যানসারকে হারিয়ে দিয়ে মাতৃত্বের স্বাদও লাভ করতে পেরেছেন।
আরও পড়ুন- এবার গরম জব্দ! এই পাখা চালালেই ঘরের তাপমাত্রা নামবে ১২ ডিগ্রিতে
বিশ্বব্যাপী সমীক্ষা থেকে জানা যাচ্ছে, স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা শুরু করার আগেই ফার্টিলিটি প্রিজারভেশন করতে হবে। এটাই কমবয়সী মহিলাদের জন্য নিরাপদ। ফার্টিলিটির উপর যাতে কেমোথেরাপির প্রভাব না-পড়ে, তার জন্য আগে থেকেই সংরক্ষণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা উচিত। প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে ডিম্বাশয়ের কোষ এবং ভ্রূণ সংরক্ষণ হল স্ট্যান্ডার্ড ফার্টিলিটি প্রিজারভেশন।
আরও পড়ুন- এই ৫ সঙ্কেত পেলেই বিপদ ! হতে পারে গলায় ক্যানসারও, পরামর্শ নিন চিকিৎসকের
তবে চিকিৎসা পরিকল্পনা চলাকালীনই রোগীর সঙ্গে একটা বিষয়ে আলোচনা করা জরুরি। ক্যানসারের চিকিৎসার ফলে বন্ধ্যাত্বের ঝুঁকি বাড়ে, এই বিষয়টা রোগীকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে। ফলে যাঁরা ফার্টিলিটি সংক্রান্ত বিষয়ে আগ্রহ দেখাবেন, এমনকী যাঁরা বিষয়টা নিয়ে তেমন নিশ্চিত নন, তাঁদেরও রিপ্রোডাকটিভ বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করতে হবে।
ডা. সৌরেন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, উন্নত দেশগুলিতে স্তন ক্যানসার মহিলাদের সাধারণ ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। আর তাঁদের ফার্টিলিটি বিকল্প জটিল হয়ে ওঠে এবং বয়স, রোগ-নির্ণয়, চিকিৎসার ধরন ইত্যাদির মতো বিষয়ের উপরেও নির্ভর করে। ফার্টিলিটি প্রিজারভেশনের ক্ষেত্রে বর্তমানে সব থেকে কার্যকরী উপায় হল ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন বা আইভিএফ। তিনি আরও বলেন যে, নির্দিষ্ট কিছু কারণে অধিকাংশ ক্যানসার রোগীই নিজেদের ফার্টিলিটি সংক্রান্ত উদ্বেগ বোঝাতে পারেন না। আসলে ক্যানসার রোগ ধরা পড়লেই একপ্রকাশ দিশেহারা হয়ে পড়েন। ফলে ফার্টিলিটি সংক্রান্ত ক্ষতির বিষয়টা নিয়ে সে-ভাবে ভাবতেই পারেন না। তবে কিছু রোগী আবার চিকিৎসার পরিকল্পনা বিষয়ক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ফার্টিলিটি সংক্রান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এর জন্য চিকিৎসককেই বন্ধ্যাত্ব সংক্রান্ত সমস্যার কথা রোগীকে বোঝাতে হবে। আর চিকিৎসা শুরু করার আগে থেকেই এটা করলে রোগীর কষ্ট এবং উদ্বেগ কমবে। সেই সঙ্গে জীবনের মানও উন্নত হবে।
