ডায়েটিশিয়ান রঞ্জনা সিং বলেন, চায়ে ক্যাফেইন থাকে, যা একটি প্রাকৃতিক উদ্দীপক। ক্যাফেইন আমাদের মস্তিষ্কের রক্তনালীগুলিকে সংকুচিত করতে সাহায্য করে। অনেক ধরণের মাথাব্যথা, বিশেষ করে মাইগ্রেনের কারণে রক্তনালীগুলি প্রসারিত হয়, যা ব্যথা বৃদ্ধি করে। এই ধরনের ক্ষেত্রে, অল্প পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে সাময়িক উপশম পাওয়া যেতে পারে। এই কারণেই কিছু ব্যথানাশক ওষুধের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য ক্যাফেইনও যোগ করা হয়। তবে, এটিকে স্থায়ী মাথাব্যথার চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
advertisement
ডায়েটিশিয়ান ব্যাখ্যা করেছেন যে চা সব ধরনের মাথাব্যথার জন্য উপকারী নয়। যদি মাথাব্যথা মানসিক চাপ, জলশূন্যতা বা গ্যাসের কারণে হয়, তাহলে কেবল চা পান করলেই স্থায়ী সমাধান হবে না। খালি পেটে অতিরিক্ত চা পান করলে মাঝে মাঝে অ্যাসিডিটি বেড়ে যেতে পারে, যা মাথাব্যথা আরও খারাপ করতে পারে। তাছাড়া, যারা প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে চা বা কফি পান করেন তাদের ক্যাফেইনের প্রতি আসক্তি তৈরি হতে পারে। যদি তারা হঠাৎ করে ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দেন, তাহলে তাদের ক্যাফেইন প্রত্যাহারের মাথাব্যথা হতে পারে।
আরও পড়ুন : ভারতের কোন নদী ‘ইংলিশ চ্যানেল’ নামেও পরিচিত? আপনি যেটা ভাবছেন, সেটা কিন্তু নয়! জানুন সঠিক উত্তর
বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে পরিমিত পরিমাণে চা পান করা ক্ষতিকারক নয় এবং হালকা মাথাব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারে। বিশেষ করে আদা বা ভেষজ চা ফোলাভাব এবং বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদার প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা মাইগ্রেনের লক্ষণগুলি কিছুটা হলেও উপশম করতে পারে। তবে, এটি মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ যে এটি কোনও নিরাময় নয়, তবে কেবল সাময়িক উপশম। যদি মাথাব্যথা ঘন ঘন, তীব্র হয়, অথবা বমি, মাথা ঘোরা এবং ঝাপসা দৃষ্টির মতো লক্ষণগুলির সাথে থাকে, তবে এটি উপেক্ষা করা উচিত নয়। এই ক্ষেত্রে, ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা গুরুত্বপূর্ণ।
