আয়ুর্বেদের মতে, স্নানের সময় প্রথমে মাথায় ঠান্ডা বা গরম জল ঢালা ক্ষতিকারক হতে পারে। মাথায় সরাসরি জল ঢালা হঠাৎ করে মস্তিষ্কের স্নায়ুতে প্রভাব ফেলতে পারে এবং রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত করতে পারে। তাছাড়া, ঠান্ডা জল ঠান্ডা লাগা এবং মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই, স্নানের ক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে স্নান পা এবং গোড়ালি দিয়ে শুরু করা উচিত। এর ফলে শরীর ধীরে ধীরে ঠান্ডা বা গরম জলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। পা থেকে জল ঢালা সঠিক রক্ত সঞ্চালন বজায় রাখে এবং শরীরের অঙ্গগুলি ধীরে ধীরে জলের তাপ বা ঠান্ডার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়।
advertisement
পায়ের পর, হাত, বাহু, ধড় এবং পিঠ জল দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত। এই ক্রমে স্নান করলে শরীরের সমস্ত অংশ ধীরে ধীরে জলের অনুভূতির সাথে খাপ খাইয়ে নেয় এবং আয়ুর্বেদ অনুসারে, বাত এবং কফ দোষ নিয়ন্ত্রণ করে। এই ক্রম ত্বকে রক্ত প্রবাহকেও সমানভাবে বৃদ্ধি করে। স্নানের শেষ পর্যায়ে, মাথা এবং মুখে জল ঢেলে দেওয়া উচিত। এটি মস্তিষ্ক এবং চোখের উপর ভারসাম্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে, যা সতেজতার অনুভূতি প্রদান করে। আয়ুর্বেদে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়, কারণ খুব তাড়াতাড়ি মাথায় জল ঢেলে ঠান্ডা লাগা, মাথাব্যথা বা অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা আরও খারাপ হতে পারে।
আয়ুর্বেদের মতে, স্নান এমনভাবে করা উচিত যাতে খুব বেশি ঠান্ডা বা খুব বেশি গরম না হয়। জল হালকা গরম হওয়া উচিত। স্নানের পরে, আপনার শরীর ভালোভাবে শুকিয়ে নিন এবং ঠান্ডা বাতাসে সরাসরি দাঁড়ানো এড়িয়ে চলুন। এই অভ্যাসগুলি ত্বক এবং শরীরের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। আয়ুর্বেদের মতে, সঠিক স্নানের ক্রম স্বাস্থ্য এবং সতেজতা উভয়ের জন্যই অত্যন্ত উপকারী। স্নানের সময় সামান্যতম অসাবধানতাও আপনার স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। তাই, সতর্কতা অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ।
