বিষ্ণুপুর শহরের বাবুডাঙা এলাকায় অবস্থিত মদনমোহন মন্দিরটি ১.৪ মিটার উঁচু মাকড়া-পাথরের ভিতের উপর নির্মিত। দক্ষিণমুখী এই মন্দিরটির দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় ১২.২ মিটার এবং উচ্চতা প্রায় ১০.৭ মিটার। পোড়ামাটির সূক্ষ্ম অলঙ্করণে সাজানো মন্দিরের গায়ে আজও স্পষ্ট টেরাকোটার নিখুঁত বাঁধন ও শৈলই। প্যানেলগুলিতে ফুটে উঠেছে পশু-পাখির ছবি, বিভিন্ন ভাস্কর্য, কৃষ্ণলীলা, দশাবতার ও নানান পৌরাণিক কাহিনি। মন্দিরের উপরের অংশে প্রধানত যুদ্ধদৃশ্যের উপস্থিতি তৎকালীন সময়ের সামাজিক ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের কথা মনে করিয়ে দেয়।
advertisement
ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, তৎকালীন মল্লরাজ দুর্জন সিংহ ১০০০ মল্লাব্দে (১৬৯৪ খ্রিষ্টাব্দে) এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। মন্দিরের দক্ষিণ দেওয়ালের শিলালিপিতে রাধাকৃষ্ণের চরণে ভক্তি নিবেদনের কথা উল্লেখিত রয়েছে। যদিও এই শিলালিপির গভীরে না গিয়েও পর্যটকেরা মন্দিরের স্থাপত্য ও পরিবেশ উপভোগ করতে পারেন অনায়াসেই।
মদনমোহন মন্দিরকে ঘিরে রয়েছে এক জনপ্রিয় লোককথাও। কথিত আছে, ভাস্কর পণ্ডিতের নেতৃত্বে মরাঠা দস্যুরা বিপুল সেনাবাহিনী নিয়ে বিষ্ণুপুর আক্রমণ করতে এলে রাজা প্রজাদের মদনমোহনের উপাসনায় মন দিতে বলেন। বিশ্বাস করা হয়, স্বয়ং মদনমোহন কামানের তোপ বর্ষণ করে বিষ্ণুপুরকে রক্ষা করেছিলেন। যদিও ঐতিহাসিকদের মতে, সে সময় বিষ্ণুপুরের দুর্গ ছিল অত্যন্ত সুদৃঢ়, যা ভেদ করা মরাঠা বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হয়নি।
ইতিহাস আর বিশ্বাসের মেলবন্ধনেই মদনমোহন আজও বিষ্ণুপুর শহরের ‘নগর দেবতা’ হিসেবে পূজিত। শীতের সকালে বিষ্ণুপুর শহর ঘুরে মদনমোহন মন্দির দর্শন করলে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত—পুরো দিনটাই কেটে যায় ইতিহাস, শিল্প আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে।





