বাঁকুড়া শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে দ্বারকেশ্বর নদের তীরে বাংলার অন্যতম প্রাচীন শিবমন্দির অবস্থান করছে। এই মন্দির বিশেষভাবে পরিচিত এক্তেশ্বরের মন্দির নামেই। ল্যাটেরাইট এবং বেলেপাথর দিয়ে তৈরি সুগঠিত এই মন্দিরের উচ্চতা প্রায় ৪৫ ফিট। রয়েছে মন্দিরের গায়ে খোদাই করা দেবদেবীর অসাধারণ সব মূর্তি । চারিদিকে ছড়ানো ছেটানো বহু শিবলিঙ্গ। ইতিহাস গবেষক সুকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জৈন স্থাপত্য নিয়ে যাঁরা নাড়াচাড়া করেন তাঁরাই একমাত্র বলতে পারবেন এই মন্দিরের সঙ্গে জৈন স্থাপত্য এবং ভাস্কর্যের মিল। কিন্তু এক্তেশ্বর মন্দিরের গঠনের জ্যামিতি লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে একটি উচ্চ ভিত্তি ভূমি থেকে ধীরে ধীরে নিচে নামছে মূল উপাসনা গৃহ এবং এই মন্দির মূলত পশ্চিমমুখী।
advertisement
বাঁকুড়া শহরের উপকণ্ঠে দ্বারকেশ্বর নদের তীরে অবস্থিত এক্তেশ্বর শিব মন্দির রাঢ় বাংলার এক প্রাচীন ও আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যের ধারক। সম্প্রতি মন্দিরে উপচে পড়া ভক্তের ভিড় এই জনপদের সুপ্রাচীন ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত অনন্য; এর নীচের অংশ ল্যাটেরাইট পাথরের এবং উপরের অংশ ইটের তৈরি, যা বাংলার আদি রেখ-দেউল রীতির পরিচয় দেয়। জনশ্রুতি আছে, বিষ্ণুপুরের মল্লরাজারা এই মন্দিরের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন।
আরও পড়ুন : সুন্দরবনে জঙ্গলজীবী মানুষের সাহস ও আশ্রয়ের প্রতীক লৌকিক দেবী বনবিবি
‘এক্তেশ্বর’ নামের উৎপত্তি নিয়ে নানা মত থাকলেও, শিবের ‘একপাদ’ মূর্তির ধারণা এবং দুই সামন্ত রাজ্যের সীমানা বিবাদ মেটাতে মহাদেবের আবির্ভাবের লোকগাথা আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। বিশেষ করে গাজন উৎসব ও চৈত্র সংক্রান্তিতে এই মন্দির প্রাঙ্গণ এক মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়, যা প্রমাণ করে যে কয়েকশো বছরের পুরনো এই ইতিহাস আজও বাঁকুড়াবাসীর সংস্কৃতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে রয়েছে।