রবিবার রাত থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে রাজ্যের শীর্ষস্তরের কয়েকজন আমলা ও পুলিশ আধিকারিকের বদলি হয়েছে। তার মধ্যেই সোমবার শহরের রাস্তায় মিছিল করেন মুখ্যমন্ত্রী। কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হওয়া মিছিলে নেতৃত্ব দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মিছিলে সামনের সারিতে ছিলেন তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা। অনেকেই মাথায় প্রতীকী গ্যাস সিলিন্ডার নিয়ে হাঁটেন। গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ‘ক্যাশ দিয়ে লাভ নেই, গ্যাস দিন মানুষকে’—এই স্লোগানও ওঠে মিছিলে।
advertisement
এই ৩টি ফল ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক! নিয়মিত খেলেই মিলতে পারে অবাক করা ফলাফল
কলেজ স্কোয়ার থেকে শুরু হওয়া এই মিছিল শেষ হয় ডোরিনা ক্রসিংয়ে। সেখানে মঞ্চে উঠে বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, “আমি বাজে কথা বলি না। আজকের মিছিলেই প্রমাণ হয়ে গেছে, যত হামলাই করো না কেন, আবার জিতবে বাংলা। বাংলার নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করুন। কেউ কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না। আমরা অনেক কঠিন সময় পেরিয়ে এসেছি। মানুষের আস্থা, বিশ্বাস ও ভরসা আমাদের সঙ্গে আছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “এই মিছিল নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন করে করা হয়নি। গ্যাসের দাম যেভাবে বাড়ছে, তার প্রতিবাদেই আমরা এই কর্মসূচি নিয়েছি। কেন্দ্র কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করছে। আমি গ্যাস কোম্পানিগুলির সঙ্গে বৈঠক করে জেনেছি, বাস্তবে কোনও সঙ্কট নেই। আমরা বলছি সার্ভার খুলে দিন, মানুষের কাছে গ্যাস পৌঁছে দিন।”
বিজেপির উদ্দেশে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “আগে নিজের ছিদ্র ঠিক করো। তোমরা বলছ ‘চুন চুনকে মারেঙ্গে’। আমরা এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করি না, এটা সংসদীয় ভাষার পরিপন্থী। বাংলায় মানুষের সমর্থন আমাদের সঙ্গেই আছে। এবার আমাদের আসন আরও বাড়বে। ছক্কা মেরে বিজেপিকে অক্কা করে দিতে হবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “চার বছর ধরে কেন্দ্র রাজ্যের প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না। তার পরেও আমরা মানুষের জন্য একের পর এক প্রকল্প চালু করেছি। আগামী দিনেও মানুষের স্বার্থেই কাজ করে যাব।”
সভা শেষে তিনি সকলকে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, “আমরা চাই সবাই নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। বাংলার নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হোক। কেউ কোনও উস্কানিতে পা দেবেন না।”
