কলকাতার বিভিন্ন বাড়িতে এখন ছেলেমেয়েদের ইউনিফর্ম ছোট হয়ে যাওয়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন মা-বাবারা। সংযুক্তা মুখোপাধ্যায় দশম শ্রেণির ছেলের মা। ১৬ নভেম্বর থেকে ছেলে ফের স্কুল যাবে জেনে খুবই উচ্ছ্বসিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ইউনিফর্ম বের করে ছেলেকে দিতেই তিনি খেয়াল করেছেন, ছেলের ইউনিফর্ম একেবারেই ফিট করছে না। শুধু ইউনিফর্মই না, জুতোর মাপেও একই গোল। ২০২০-র মার্চ থেকে বন্ধ স্কুল-কলেজ। বাড়িতে বসে অনলাইন ক্লাস, খেলাধুলোয় কমতি এবং বাড়িতে বেশিরভাগ সময় থাকার ফলে শরীরে মাপ গিয়েছে অনেকটাই বেড়ে। জার জেরে ইউনিফর্ম ও জুতোর মাপ আর আগের মতো একেবারেই নেই।
advertisement
আরও পড়ুন: বাংলা জুড়ে তুঙ্গে স্কুল খোলার 'প্রস্তুতি'! পরিদর্শকদের বিশেষ নির্দেশ রাজ্য শিক্ষা দফতরের...
এরই মধ্যে হাল্কা শীতও এসে পড়েছে। স্কুলের ব্লেজার, সোয়েটারের ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে একই সমস্যা। শেষ মুহূর্তে এখন দোকানে গিয়ে নতুন করে স্কুলের শীতবস্ত্র কেনার ধুম পড়েছে দোকানগুলিতে। মানিকতলার বাসিন্দা সংযুক্তা মুখোপাধ্যায়ের কথায়, 'এতদিন এটা মাথাতেই আসেনি। আলমারি থেকে ছেলের ইউনিফর্ম বের করার পর খেয়াল করলাম, এটা ওর হবে না আর। ওকে পরিয়ে দেখামাত্রই সেটা নিশ্চিত হয়ে গেলাম'। একই পরিস্থিতির শিকার বাঘাযতীনের অঙ্কিত বিশ্বাসেরও। স্কুলের জুতো বের করে পালিশ করে রেডি করার পর পায়ে দিতেই আবিষ্কার, পা আর সেই জুতোয় গলছে না। ফলে অগত্যা সোমবার নতুন জুতো কিনতেই হবে।
আরও পড়ুন: সৈনিক স্কুলে শিক্ষক ও অন্যান্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ, বিশদে জানুন
ইএম বাইপাসের ধারের বাসিন্দা অভিভাবিকা রিমা দাসের কথায়, 'এতদিন তো স্কুলের পোশাক নিয়ে কোনও মাথা ব্যথাই ছিল না। তার মধ্যে ঠান্ডা পড়ে গিয়েছে হাল্কা। ফলে এবার থেকে করোনার পরিচ্ছন্নতার কথা মাথায় রেখে ৩-৪ সেট ইউনিফর্ম ও শীতবস্ত্র কিনে রাখতে হবে। খরচও বাড়বে সংসার চালানোর।' এরই মধ্যে রবিবার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন, প্রশাসন চাইছে সমস্ত ক্লাসেরই স্কুল খুলে দিতে। তবে আপাতত উঁচু ক্লাসের স্কুল খোলার পর পরিস্থিতি বিচার করে তবেই পরবর্তী পদক্ষেপ করবে রাজ্য। সবটাই হবে ধাপে ধাপে।
