কিন্তু প্রতীক উর সিপিআইএম ছাড়তেই সোশাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বাম নেতা-কর্মী-সমর্থকদের কেউ কেউ। অনেকেই আবার সুকৌশলে বিষয়টা এড়িয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের মন ভাঙার জন্য একটি সাক্ষাৎকারে এবার ক্ষমাও চাইলেন প্রতীক উর। শুধু তাই নয়, প্রতীক উর জানিয়েছেন, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দেখা হলে তাঁর হাত ধরে ক্ষমা চাইবেন তিনি।
advertisement
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতীক উরকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যদি বন্ধ ঘরে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে দেখা হয় কী করবেন? তাঁর জবাবে প্রতীক উর বলেন, “সেলিমদাকে দেখলেই প্রথমে জিজ্ঞেস করব, ভাল আছেন? তারপর হাতদুটো ধরে বলব, ক্ষমা করে দিন। আপনার শেষ কথাগুলো আমাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।” শুধু তাই নয়, দলের একদা সহকর্মীদের কাছেও তিনি ক্ষমা চাইবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “জানি হয়তো ওরা পারবেন না, তাও বলব ক্ষমা করে দিন।” এতেই একাংশ মনে করছে তৃণমূলে যোগ দিয়েই নাকি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছেন তিনি। কিন্তু তা মানতে রাজি নন প্রতীক উর। তাঁর কথায়, ”২০ বছর তো সিপিআইএমকে দিয়েছি। তাও প্রশ্ন করতে পারিনি। আগামী ২০-৩০ বছর তৃণমূলকে দেব। দেখি না প্রশ্ন করতে পারি কি না। আমি ১০০ শতাংশ দিয়ে আগেও দল করেছি। এখনও করব। মানুষের জন্য কাজ করব। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেন মানুষ পায় তা দেখব।” অর্থাৎ তিনি যে তৃণমূলের সঙ্গেই আছেন, থাকবেন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রতীক উর। যদিও বামেদের একটা মহল থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, মোটা টাকার বিনিময়ে নাকি তৃণমূল কিনে নিয়েছে প্রতীক উরকে। জবাবে প্রাক্তন বামনেতা সাফ জানিয়ে দেন, ”আমার যেটা মূল মোবাইল নম্বর, সেই নম্বরে ইনকামিং এখন বন্ধ। কারণ রিচার্জ করার পয়সা নেই। টাকা পেলে রিচার্জটা অন্তত করতাম।” অর্থাৎ সমালোচনাকারীদের অভিযোগকে যে তিনি মোটেও পাত্তা দিচ্ছেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন প্রতীক উর।
সপ্তাহখানেক ধরে প্রতীক উর রহমান আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর একটি চিঠি প্রথমে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। ওই চিঠিতে প্রতীক উর রাজ্য কমিটি, জেলা কমিটি এমনকী দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি চাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। সিপিএমের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
