৫ থেকে ৬ মে রাজ্যে ২ দিনের সফরে আসছেন মোদির সেনাপতি অমিত শাহ। সরকারিভাবে অমিতের এই সফর মূলত সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর উপলক্ষে। কিন্তু, তারই মধ্যে রাজ্য নেতৃত্বের আর্জিতে তাঁকে উত্তরবঙ্গে জনসভা আর কলকাতায় সাংগঠনিক বৈঠকে বসতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রেড রোড থেকে সোজা রিজওয়ানুর রহমানের বাড়িতে মমতা, কথা বললেন পরিবারের সঙ্গে
advertisement
১৯- এর লোকসভা ভোটে রাজ্যে ১৮ টি আসনে জয় ও ২১- এর বিধানসভা ভোটে উত্তরবঙ্গ বিজয় করেও স্বস্তিতে নেই বিজেপি। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় ফেরার পর, উত্তরবঙ্গ আর সেই বিজেপির গড় নেই। জঙ্গলমহল সহ দক্ষিণবঙ্গে হু হু করে নামছে বিজেপির গ্রাফ। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সাংগঠনিক রদবদলের জেরে ঘরোয়া কোন্দলে জেরবার বঙ্গ বিজেপি।
কেউ এনআরসি লাগুর দাবিতে, কেউ প্রকাশ্যে বঙ্গভঙ্গের দাবি তুলে অস্বস্তিতে ফেলছে কেন্দ্রকে। ফল, ৭৭ টি বিধানসভা আসনে জিতে, রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল হয়েও, পুরভোটে নিশ্চিহ্ন বিজেপি। এই পরিস্থিতিতে আগামী বছরেই রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট। তার আগে দলকে মাঠে নামাতে না পারলে ২৪ 'এ লোকসভা ভোটে রাজ্যে ১৮ আসনের দলকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে৷ এ কথা বুঝেই দলীয় কোন্দল ছেড়ে নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধ হতে নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি।
কিন্তু, দিল্লির নির্দেশ নিয়ে দলের একাংশ ক্ষুব্ধ। প্রকাশ্যে না বললেও, ঠারেঠোরে তারা বুঝিয়ে দিতে চান, ২১-এর দায় নিতে হবে কেন্দ্রকে। এমন কি, ফলের পরেই রাজ্যের সংগঠনে আচমকা পরিবর্তন করে রাজ্যে দলের সংগঠনকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে কেন্দ্রই। ফলে, হাল ফেরাতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেই এগিয়ে আসতে হবে।
আরও পড়ুন: খরগোশ-কচ্ছপের দৌড় মনে আছে? সেই সমীকরণেই কি এগোতে চাইছে সিপিআইএম? কী সেই ছক?
সম্প্রতি, দিল্লিতে দলের সাংগঠনিক জট নিয়ে সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন দিলীপ ঘোষ। আজ দিলীপ বলেন, ''আমি নাড্ডাজিকে বলেছি, উত্তরপ্রদেশ সহ ৫ রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে ব্যাস্ততা এখন আর নেই। এবার কেন্দ্র রাজ্যের জন্য স্থায়ী পর্যবেক্ষক পাঠাক। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব রাজ্যে আসুন৷ " এরপরেই দিলীপের সংযোযন, '' এখন অমিত শাহ আসছেন। এরপর নাড্ডা আসবেন। প্রধানমন্ত্রীও আসবেন। "
পর্যবেক্ষকদের মতে, আসলে দিলীপ কৌশলে নাড্ডাকে এ কথা বলে এক ঢিলে দুই পাখি মারলেন। কৈলাস বিজয়বর্গীয়, শিবপ্রকাশের মতো নেতারা, যাঁরা বিধানসভা ভোটের ফল বেরনোর পরেই কার্যত রাজ্য ছেড়ে দিল্লি মুখো হয়েছিলেন, তাঁদের বার্তা দেওয়া। আর, বর্তমানে রাজ্যের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বকে দিয়ে দলকে এই পরিস্থিতি থেকে টেনে তোলা সম্ভব নয় বলেই অমিত শাহ, মোদিকেই আবার মাঠে নামানোর পক্ষে সওয়াল করেছেন দিলীপ।
যদিও, দিলীপের মতে, " মোদী, শাহরা হলেন দেশের আইকন। দলের সব স্তরের নেতা কর্মীই অমিত শাহ এলে বাড়তি উজ্জীবিত হবেন। সে কারণেই আমরা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আসার জন্য বলেছি। "
