স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হতে এসেছিলেন নিমতার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সামন্ত। আসার পর তাঁর প্রস্রাবের বেগ আসায় শৌচালয় খোঁজেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু হাসপাতালে ট্রমা সেন্টারে কোনও ব্যবহারযোগ্য টয়লেট ছিল না বলেই অভিযোগ। একটিই টয়লেট মেলে যেটি কেবলমাত্র স্টাফদের জন্য। এর পরেই বিশ্বজিৎকে ১০০ মিটার দূরে থাকা একটি সুলভ শৌচালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছাতে তাঁকে প্রায় তিরিশটি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হয়েছিল। শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় এই দূরত্ব অতিক্রম এবং সিঁড়ি ভাঙা যে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য। অভিযোগ, এই পরিস্থিতির মধ্যেই ঘটে যায় মর্মান্তিক ঘটনা।
advertisement
বাড়ির ছাদের জলের ট্যাঙ্ক নোংরা হয়ে গিয়েছে? সহজ কয়েকটি ধাপে,১০ মিনিটে নিজেই সাফ করুন!
LPG উৎপাদনে শীর্ষে কোন দেশ ? বিশ্বের সেরা ‘১০’-এ ভারতের অবস্থান কোথায় জানেন?
ফিরে আবার ট্রমা সেন্টারে আসার পর কিছুক্ষণ স্থিতিশীল ছিল তাঁর অবস্থা। কিন্তু এর পরেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। যদিও এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাঁরা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। সুপার জানান, আরজি করে ৪২টি শৌচালয় আছে। এ ধরণের ঘটনা ঘটার কথা নয়।
শুধু একটি ঘটনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এই অভিযোগ। ট্রমা কেয়ার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অন্যান্য রোগী ও তাঁদের পরিজনদের বক্তব্য, গ্রাউন্ড ফ্লোরে কোনও টয়লেট না থাকায় প্রায় সকলকেই বাইরে নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সেই শৌচালয়ও সবসময় খোলা থাকে না—অনেক সময় তালাবন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়, ফলে সমস্যার আরও অবনতি ঘটে।
হাসপাতালের স্টাফদের মধ্যেও একই ক্ষোভ লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাঁদের দাবি, গোটা বিভাগের জন্য মাত্র একটি বাথরুম রয়েছে, যা শুধুমাত্র স্টাফদের ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট। কিন্তু রোগীর চাপ এবং স্টাফের সংখ্যার তুলনায় সেই একটি বাথরুম সম্পূর্ণ অপ্রতুল। সকাল থেকেই সেখানে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়, ফলে জরুরি মুহূর্তে সেটিও ব্যবহারযোগ্য থাকে না। তাছাড়া সম্প্রতি লিফট বিভ্রাটে এক যুবকের মৃত্যু নিয়ে সদ্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে আরজি কর। সেই জট কাটতে না কাটতে আবারও এক। ওদিকে অভয়ার ধর্ষণ-খুনের ঘটনারও বছর ঘুরল এই আরজি করেই! একের পর এক ভয়াবহ অভিযোগের মুখোমুখি হয়েও কেন নির্বিকার আরজি কর কর্তৃপক্ষ? উঠছে প্রশ্ন।
