বর্ণালী ধারা, কুলপি থেকে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে লড়ছেন বর্ণালী। একজন সক্রিয় সমাজকর্মী এবং বর্তমানে ‘অশ্বত্থতলা জনকল্যাণ মহিলা সমিতি’-র সম্পাদিকা এবং ‘কৃষিনির্ভর এগ্রি এফপিসি লিমিটেড’-এর চেয়ারপারসন (২০২৩–বর্তমান) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বর্ণালী। কৃষি ও সমাজসেবায় তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৮ সালে তাঁকে ‘মহিলা কিষাণ পুরস্কার’-এ ভূষিত করা হয় এবং ২০২৫ সালে ভারতের মাননীয় রাষ্ট্রপতি তাঁকে আমন্ত্রণ জানান।
advertisement
এমনই আরেক লড়াকু মুখ, মিতা বাগ। আরামবাগ বিধানসভা ভোটে ২০২২ সাল থেকে ব্লক মহিলা সভানেত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিতা। বর্তমানে তিনি আরামবাগ পঞ্চায়েত সমিতির ‘পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ’ পদে রয়েছেন। ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি পঞ্চায়েত সমিতির (PS) সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি তিরোল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধান ছিলেন।
মিতার পরিচয়ের কিন্তু এখানেই শেষ নয়। একজন তৃণমূল স্তরের দলীয় কর্মী মিতা একদমই নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এক মহিলা। তিরোল গ্রাম পঞ্চায়েতের মইগ্রাম পাড়ার বাসিন্দা মিতার স্বামী ও পুত্র—উভয়েই টোটো চালক। একজন সাধারণ বাঙালি গৃহবধূ হয়েও তিনি সমান দক্ষতায় একজন দলীয় কর্মী হিসেবে সমাজের প্রতি তাঁর ভূমিকা পালন করে চলেছেন। আর তাতেই তাঁকে চোখে পড়েছে দলীয় নেতৃত্বের।
পশ্চিম মেদিনীপুর নারায়ণগড় থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন প্রতিভা রানী মাইতি। কোনও বংশীয় যোগসূত্র বা রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ছাড়াই একজন স্ব-প্রতিষ্ঠিত নেত্রী প্রতিভা একজন বিধবা। শুধুমাত্র যোগ্যতার জোরেই দলে শীর্ষপদে উঠে এসেছেন প্রতিভা। একজন প্রাক্তন প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষিকা ও একজন স্থানীয় ওষুধের দোকানের মালিক প্রতিভা তাঁর জীবনে ও কাজে তৃণমূল স্তরের সংযোগের সমন্বয় ঘটিয়েছেন অনায়াসে। আর তাতেই তাঁকে যোগ্য মনে করেছে দল।
এক দশকেরও বেশি সময় যাবৎ অসাধারণ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অধিকারী এই মহিলা একইসঙ্গে পঞ্চায়েত সমিতি (পিএস) সদস্য এবং জেলা পরিষদ (জেডপি) কর্মীধ্যক্ষ উভয় পদেই সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে, তিনি একটি ঐতিহাসিক প্রশাসনিক সংস্কারের নেতৃত্ব দেন, যা পশ্চিম মেদিনীপুরকে রাজ্যে ২০তম স্থান থেকে ১ম স্থানে উন্নীত করেছে। আর এই সবই হয়ে উঠেছে তাঁর যোগ্যতার সিলমোহর।
মুর্শিদাবাদের রানিবাঁধ কেন্দ্রের প্রার্থী তনুশ্রী হাঁসদা দলে যোগ দিলেন মাত্র কিছুদিন। তনুশ্রী হাঁসদা, আদিবাসী সমাজে পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসাবে বেশ জনপ্রিয়। রানিবাঁধ আসনের বর্তমান বিধায়ক মন্ত্রী জ্যোৎস্না মান্ডিকে সরিয়ে তাঁকেই কেন প্রার্থী করলেন মমতা অভিষেক?
সম্ভবত রাণীবাঁধ আসন থেকে তাকে প্রার্থী করবে তৃণমূল। এই তাঁকেও ভোটে প্রার্থী করে চমকে দিয়েছে তৃণমূল। শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. তনুশ্রী হাঁসদা তফসিলি উপজাতি (ST) সম্প্রদায়ের জীবন, ভাষা এবং সংস্কৃতির উপর ব্যাপক গবেষণা ও কাজ করে চলেছেন। আদিবাসী সম্প্রদায়ের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্বকীয়তা বা পরিচিতি সম্পর্কিত বিষয়গুলিকে বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক কর্মী।
বর্তমানে তনুশ্রী হেরম্ব চন্দ্র কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এর আগে, ২০০৯ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি চেন্দাপাথর এস.কে.এস.টি. হাইস্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এই তনুশ্রীকেও বেছেছেন অভিষেকরা। শুধুমাত্র আদিবাসী সমাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা তাঁকে আলাদা করেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে। আগামী দিনে এঁরাই কি হয়ে উঠতে পারেন বিধায়ক? উত্তর দেবে জনমত।
