আরজি কর কাণ্ড থেকে শুরু করে সম্প্রতি আই-প্যাক বা এসআইআর মামলা, তৃণমূলের হয়ে বারবার সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন ক্ষুরধার আইনজীবী মেনকা। আর তা বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তাঁর বিষয়ে সদর্থক বার্তাই বয়ে নিয়ে এসেছে। কিন্তু মেনকার একেবারে তৃণমূলের প্রার্থী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল গত ১৪ জানুয়ারি। ওই দিন কলকাতা হাইকোর্টে আইপ্যাক মামলার শুনানি চলছিল। সেই সময় অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু শুনানির সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেশ কয়েকবার নাম ধরে উল্লেখ করেন। তাতেই গর্জে ওঠেন মেনকা। রাজুর উদ্দেশ্যে সরাসরি তিনি বলেন, ”এর পর থেকে আইনজীবী হিসেবে আদালতে বক্তব্য রাখার সময়ে, একজন বর্তমান মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে শুধু নাম ধরে সম্বোধন না করে তাঁর পদমর্যাদার সম্মান রাখুন। তিনি একজন বহুবার নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী। আদালতে বক্তব্য রাখতে হলে একটি নির্দিষ্ট শালীনতা ও সৌজন্য বজায় রাখা প্রয়োজন, মি. রাজু”। সেই খবর মমতার কাছে পৌঁছতে দেরি হয়নি। মেনকার প্রার্থী হওয়ার পিছনে সেই দিনটির যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন তৃণমূলের অনেকেই।
advertisement
মেনকা গুরুস্বামীর দীর্ঘদিনের পার্টনার অরুন্ধতী কাটজুও একজন বিশিষ্ট আইনজীবী। ২০১৯ সালে সংবাদমাধ্যম CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তাঁরা প্রথম প্রকাশ্যে নিজেদের গে কাপল হিসেবে স্বীকার করেছিলেন। তার আগে ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টে ৩৭৭ ধারা বাতিলের ঐতিহাসিক মামলায় তাঁরা একসঙ্গে লড়াই করেছিলেন এবং জয়ীও হয়েছিলেন। তাঁদের এই লড়াই ভারতে সমকামিতাকে অপরাধমুক্ত করেছিল। এলজিবিটিকিউ (LGBTQ+) অধিকারের ক্ষেত্রে এই আইনি জয়কে যুগান্তকারী বলে মনে করা হয়।
মেনকার বাবা, মোহন গুরুস্বামী BJP-র প্রাক্তন স্ট্র্যাটেজিস্ট। তিনি অটলবিহারী বাজপেয়ী সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিনহার বিশেষ উপদেষ্টা পদে ছিলেন। তবে পারিবারিক এই রাজনৈতিক পটভূমি থাকা সত্ত্বেও মেনকাকে বরাবরই স্বাধীন ভাবে প্রগতিশীল মতাদর্শ নিয়ে কাজ করতে দেখা গিয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য ২০২১ সালে যশবন্ত সিনহাও তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন।
মেনকা গুরুস্বামী ‘ন্যাশনাল ল স্কুল’, ‘হার্ভার্ড’ এবং ‘অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়’-এর মতো প্রথম সারির প্রতিষ্ঠান থেকে পড়াশোনা করেছেন। ছত্তিশগড়ে মাওবাদী দমনে তৈরি বিতর্কিত বাহিনী ‘সলওয়া জুড়ুম’-এর বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই করেছেন। মণিপুরে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে ‘অ্যামিকাস কিউরি’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অগস্ত ওয়েস্টল্যান্ড ভিভিআইপি কপ্টার দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান এস পি ত্যাগীর আইনজীবী ছিলেন তিনি। ফলে যথেষ্ট হাই প্রোফাইল নাম মেনকা। এবার তাঁকেই রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছে তৃণমূল।
