এ দিন রাজ্যপালের বাজেট বক্তৃতার উপরে বিরোধী দলনেতা এবং মুখ্যমন্ত্রীর জবাবি ভাষণ নিয়ে শুরু থেকেই তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভার অধিবেশন। বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়ান শুভেন্দু অধিকারী। এর পরেই শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে স্বাধিকার ভঙ্গের প্রস্তাব আনার নির্দেশ দেন স্পিকার। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিধানসভা থেকে ওয়াক আউট করেন বিজেপি বিধায়করা।
advertisement
আরও পড়ুন: পঞ্চায়েতের আগে মাস্টারস্ট্রোক দিতে চলেছে সরকার, তবু এই এক কারণে প্রবল ক্ষুব্ধ নবান্ন
বক্তব্য রাখতে উঠে নাম না করে বিরোধী দলনেতাকেও আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিধানসভা থেকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাব আনেন তৃণমূল বিধায়ক তাপস রায়৷ কিন্তু সবাইকে কিছুটা অবাক করে দিয়েই মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী দলনেতা সহ উপস্থিত সব বিধায়কের হয়ে অধ্যক্ষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন৷ এমন কি, শুভেন্দু অধিকারীকে সাসপেন্ড করার প্রস্তাবও প্রত্যাহার করতে অনুরোধ করেন তিনি৷ এর পরেই এই প্রস্তাব প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন স্পিকার৷
মুখ্যমন্ত্রীর এই সৌজন্যের পরেও অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে সরব হন বিরোধী দলনেতা৷ তিনি অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই তাঁর বক্তব্যের একাংশ বিধানসভার রেকর্ড থেকে বাদ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার৷ শুভেন্দু দাবি করেন, তিনি মুখ্যমন্ত্রী সহ কাউকেই ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি৷ কোনও অসংসদীয় শব্দও বলেননি৷
ক্ষুব্ধ বিরোধী দলনেতা বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রীর কোনও ত্রুটি বিচ্যুতি, নয়ছয়, চাকরি কেলেঙ্কারি, ডিএ কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না? মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও বক্তব্য রাখা না গেলে বিধানসভা কীভাবে চলবে? বিধানসভা তো বিরোধীদের৷'
আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে বোঝাপড়া করেছিলেন শুভেন্দু? বিধানসভায় চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করলেন মমতা
এর পরেই হাতে কয়েকটি কাগজ নিয়ে শুভেন্দু বলেন, 'তাহলে আর কী করব, কবিতা পড়ব? কবিতাই পড়ি৷ বইমেলা তো শেষ হয়ে গেছে, কিন্তু এখনও স্টলগুলো রয়েছে৷ কোন কবিতাটা পড়ব, এপাং ওপাং ঝপাং? না এইটা পড়ি, সম্মান৷'
কবিতা পাঠ শেষ করে ব্যঙ্গের সুরেই শুভেন্দু বলেন, 'কবির নাম বলার প্রয়োজন নেই৷ আপনারা সবাই জানেন৷' তবে মমতার কবিতা পড়ে শোনানোর পরিকল্পনা যে শুভেন্দু আগেই নিয়েছিলেন, তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে৷ কারণ মুখ্যমন্ত্রীর লেখা কয়েকটি কবিতা আগে থেকেই কাগজে ছাপিয়ে নিয়ে বিধানসভায় এসেছিলেন বিরোধী দলনেতা৷
কয়েকদিন আগেই সেন্ট জেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ডি লিট সম্মান দিতে গিয়ে তাঁর সাহিত্যের প্রশংসা করেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস৷ এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন বিজেপি নেতারা৷ আপত্তি জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা কবিতা নিয়েও আগেও প্রকাশ্যেই কটাক্ষ করতে শোনা গিয়েছে বিরোধী নেতাদের৷ তবে সম্ভবত এই প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রীর কবিতা পাঠ করতে শোনা গেল বিরোধী দলনেতাকে৷
