নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, যাঁরা নির্বাচনী কাজের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত, তাঁদের ক্ষেত্রে নিজ জেলা বা নিজ কর্মস্থলে দীর্ঘদিন থাকার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। এই নিয়মের আওতায় পড়ছেন জেলা নির্বাচন আধিকারিক, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন আধিকারিক, রিটার্নিং অফিসার, সহকারী রিটার্নিং অফিসার, নোডাল অফিসার-সহ ভোট পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু আধিকারিকও এই নির্দেশিকার অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে।
advertisement
তবে কমিশনের নির্দেশিকায় কিছু ক্ষেত্রে ছাড়ের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যাঁরা সরাসরি ভোট পরিচালনার কাজে যুক্ত নন, বা যাঁদের ভূমিকা প্রশাসনিক হলেও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগ নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বদলির নির্দেশ কার্যকর নাও হতে পারে। কোন কোন পদ ও আধিকারিক এই নির্দেশের আওতায় থাকবেন এবং কারা থাকবেন না, তার বিস্তারিত তালিকা ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
জাতীয় নির্বাচন কমিশন রাজ্য প্রশাসনগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই নির্দেশিকা কার্যকর করে কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট না দিলে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে কমিশন।
ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিরোধীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, স্থানীয় স্তরে প্রশাসনের একাংশ ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবমুক্ত নয়। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এবার আগাম সতর্কতা হিসেবে এই নির্দেশিকা জারি করা হল বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
