বুধবার একাধিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় রাজ্য সিপিএমের অন্দরে লবিবাজি, কাছের লোকদের বাঁচানোর মতো অভিযোগ এনেছেন প্রতীক উর৷ দলের রাজ্য সম্পাদককে পাঠানো তাঁর ইস্তফাপত্র কীভাবে ফাঁস হল, কারা বিমান বসুর সঙ্গে তাঁর আলোচনার কথা সংবাদমাধ্যমে জানিয়ে দিল, সেই প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএম থেকে সদ্য পদত্যাগী এই তরুণ নেতা৷ নাম না করে দলের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকেও বিঁধেছেন প্রতীক উর৷ তাঁর আক্রমণের নিশানায় বারবার ছিলেন আরেক তরুণ সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষও।
advertisement
আর প্রতীক উরের সেই আক্রমণের পরেই এবার মুখ খুললেন শতরূপ। কটাক্ষের সুরেই শতরূপ বলেন, ”প্রতীক উর সবচেয়ে বেশি পেয়ারের লোক। প্রতীক উরকে দলের সবাই ভালোবাসে। সেই কারণেই অত অল্প বয়সে প্রতীক উরকে বিধানসভায় প্রার্থী করা, লোকসভায় প্রার্থী করা হয়েছে। আমার তিন বছর আগে প্রতীক উর রাজ্য কমিটির সদস্য হয়েছে। ও নিজের যোগ্যতায় এই জায়গায় এসেছে। ওর অনেক কথা নিয়েই প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। কিন্তু প্রতীক উর পার্টির জন্য অনেক লড়াই করেছেন। সেটা মিথ্যে হয়ে যায় না।”
যদিও তরুণ নেতা প্রতীক উর বৃহস্পতিবারই বলেন, ”কারা আমার ইস্তফাপত্র ফাঁস করে দিল, তাঁদের খুঁজে বের করা দরকার৷ এঁদের চিহ্নিত করতে না পারলে দল বাঁচবে না৷ আমি সিপিআইএম নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলতে চাই, যে কালপ্রিটরা দলের ভিতরে লুকিয়ে আছে তাঁদের অবিলম্বে খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়া দরকার৷ তাহলে দলটা বেঁচে যাবে৷ কিন্তু আমি জানি এই কাছের লোকদের বাঁচানো হবে৷ বিমানদার সঙ্গে আমার কথা হল, সেটাও সংবাদমাধ্যমে ফাঁস করে দেওয়া হল৷ ফলে দলের ভিতরে কোনও গোপনীয়তা নেই৷ প্রতীক উর অভিযোগ করেছেন দিনের পর দিন তাঁর মতো অনেকেই সিপিএমে লবিবাজির শিকার হয়েছেন৷”
প্রতীক উর রহমান সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের নাম না করেই অভিযোগ করেছেন, যাঁকে আমি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছিলাম তাঁকে ফোন করলেও তিনি ধরেননি৷ তবে প্রতীক উর স্বীকার করেছেন, দলের বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা তাঁকে ফোনও করেছেন৷ আর এবার প্রতীক উরকেই পাল্টা নিশানা করলেন শতরূপ ঘোষ।
