যা প্রতিবছর পেয়ারার ব্যবসা করে প্রায় ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব এই ব্যবসা থেকে। তবে সব পেয়ারা নয় এর মধ্যে সব থেকে লাভজনক যারা জাত হলো তাইওয়ান গোলাপি পেয়ারা। যা এখন ভারতবর্ষ তথা দক্ষিণ চব্বিশ পরগণায় এই জাতের পেয়ারা খুব জনপ্রিয় তা অর্জন করেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা তথা বারইপুর এবং ভারতবর্ষে কৃষকদের জন্য আয়ের একটি উৎস হয়ে উঠেছে। এই তাইওয়ান গোলাপি পেয়ারা চাষে। কৃষকরা এখন বিভিন্ন রাজ্যে এটি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।
advertisement
এটি পেয়ারার একটি অত্যন্ত উন্নত জাত এবং এক বছরের মধ্যেই এর উদ্বৃত্ত ফলন দিতে সক্ষম। যে কৃষকরা ঐতিহ্যবাহী চাষ থেকে আলাদা কিছু করতে চান, তারা তাইওয়ান গোলাপি পেয়ারা চাষ করতে পারেন। আর এই ফল পশ্চিমবঙ্গ সব থেকে বেশি চাষ হয় বারুইপুরের এবং এখানে সারা বছরই মেলে এই ফল। আরিফ ফল চাষ করে আর্থিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে গেছে বারুইপুরের পেয়ারা চাষিরা। পেয়ারা চাষ বেশ লাভজনক।
বিঘাপ্রতি ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয়ের সুযোগ রয়েছে এই ফল চাষে। মূলত শীতকালে তাপমাত্রা ১০-১২ ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড হলে ভাল মানের পেয়ারা পাওয়া যায়। এটি উচ্চ তাপমাত্রা এবং খরা সহ্য করতে পারে এই ফল তাই শীতকালের পাশাপাশি গরমকালেও এই ফল চাষ ভাল হয়। কিন্তু তুষারপাত সহ্য করতে পারে না আর তাই পাহাড়ি এলাকাতে এই ফল সেভাবে কাজ করা যায় না। তবে এই ফলের জন্য গাছের গোড়া শক্ত এবং বৃদ্ধির জন্য বৃষ্টিপাতের ও প্রয়োজন আছে। তবে ফল ধরার সময় বৃষ্টি হলে ফলের উৎপাদন এবং গুণমান ব্যাহত হয়। পেয়ারা ভারী কাদা মাটি ছাড়া সব ধরনের মাটিতে চাষ করা যায়। এটা হালকা বেলে দোআঁশ থেকে কাদা দোআঁশ মাটিতে চাষ ভাল হয়।
বিভিন্ন প্রকারের কলম করে ভাল জাতের গাছের বংশবিস্তার করা হয়ে থাকে। যেমন-গুটি কলম, জোড় কলম, চোখ কলম ইত্যাদি। এর মধ্যে গুটি কলম পদ্ধতিটি সহজ । সাধারণত ১ বছরের চারা রোপণের পরে গাছে ফল আসতে শুরু করে। তবে সেটা জাত অনুযায়ী। পেয়ারা সারা বছর তোলা হয়। কিন্তু ফল তোলার সঠিক সময় হল বর্ষা (অগাস্ট), শীত (নভেম্বর-ডিসেম্বর) এবং বসন্ত (এপ্রিল-মার্চ)। ফলের রঙ সবুজ থেকে হালকা হলুদ ফল তোলার উপযুক্ত সাধারণত ফুল আসার ৪-৫ মাস পর হয়। পেয়ারা সাধারণত হাত দিয়ে তোলা হয়। বীজ থেকে তৈরি গাছে ফল আসতে সময় লাগে চার থেকে পাঁচ বছর।
অন্যদিকে, কলম করা গাছে দু-তিন বছরের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়। ফল পাকার সময় ফলের রঙ সবুজ থেকে ধীরে ধীরে হলদেতে পরিণত হয়। পাকা ফল গাছে রাখা সম্ভব হয় না। তার কারণ বিভিন্ন প্রকারের পাখি ও বাদুড় অনেক ফল নষ্ট করে দেয়। তাই ফল পাকার ঠিকা দু-একদিন আগেই ফল গাছে থেকে কেড়ে নিতে হবে। একটি ৩-৪ বছর গাছের গড় ফলন ২৫-৩০ কেজি হবে। প্রতি কেজি পেয়ারা পাইকারি বাজারে ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হলে গাছপিছু আয় হবে ৫০০-৬০০ টাকা। প্রতি বিঘাতে আয় হবে ২৫,০০০-৩০,০০০ টাকা।





