এই পরিস্থিতির পরিণতি এখন পুরো ব্যবস্থার উপর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। কাঁচা মালের চড়া দাম এবং কার্যকরী মূলধনের সংকটের কারণে জুট মিলগুলো কাজের শিফট কমিয়ে দিচ্ছে অথবা উৎপাদন বন্ধ করে দিচ্ছে। হাজার হাজার জুট মিল শ্রমিক তাদের কাজ ও মজুরি হারাচ্ছেন, যা শিল্পাঞ্চলগুলোতে চরম দুর্দশা ডেকে আনছে। একই সাথে, পাট চাষিরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন; বর্তমান চড়া দাম সরকারি নীতি-সমর্থিত বা সুস্থায়ী কিনা, সে বিষয়ে তাদের কাছে কোনও নিশ্চয়তা নেই। এমনকি সরকারের খাদ্যশস্য সংগ্রহের প্যাকেজিং ব্যবস্থাও সংকটের মুখে পড়েছে, যা পাটের বদলে বিকল্প সামগ্রী ব্যবহারের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
advertisement
আরও পড়ুন: ‘মাঠ জুড়েই খেলবেন দিলীপ’, ছাব্বিশে BJP-র প্ল্যান? নেতার পছন্দের ময়দান কিন্তু খড়্গপুর
অবিলম্বে সংশোধনী পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কেন্দ্রীয় বস্ত্রমন্ত্রককে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেছেন,
*কাঁচা পাটের দামে স্থিতিশীলতা/বাফার ফ্রেমওয়ার্ক ঘোষণা করা
একটি নির্দিষ্ট মজুত নীতি তৈরি করা এবং MSP-তে পাট কেনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বচ্ছভাবে বাজারে পাট ছাড়ার ব্যবস্থা করা।
*PCSO চাহিদা নিশ্চিত এবং সুশৃঙ্খল করা
সময়মতো পাটের দাম চূড়ান্ত করা এবং তাড়াহুড়ো করে অর্ডার না দিয়ে একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতি বজায় রাখা, যাতে কৃষক ও মিল, উভয়েরই সুবিধা হয়।
*কৃষক-বান্ধব MSP বা সহায়ক মূল্য অভিযান আরও জোরদার করা
পাট সংগ্রহের গতি ও ব্যাপ্তি বাড়ানো, পাটের গুণমান নির্ধারণে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দেওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অর্থ প্রদান নিশ্চিত করা।
পাট যে কেবল একটি শিল্প নয়, বরং লক্ষ লক্ষ মানুষের রুটি-রুজি এবং দেশের প্যাকেজিং ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি, সেটির ওপর জোর দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সতর্ক করেছেন যে, সরকারের এই ক্রমাগত উদাসীনতা এই শিল্পের স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। কাঁচা পাটের বাজারে স্থিতিশীলতা, ভরসা এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
