রাজ্যসভার বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ সিনহা ওরফে রাহুল সিনহার ত্রুটিপূর্ণ মনোনয়ন গৃহীত হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের৷ জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকাল ১১ টায় রাজ্যসভার নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের জমা দেওয়া মনোনয়নপত্র স্ক্রুটিনি শুরুর কথা ছিল। সূত্রের খবর, রাহুল সিনহাকে জানানো হয়েছিল, যে নথি তিনি দিতে ভুল করেছেন, তা স্ক্রুটিনি শুরুর আগেই জমা করতে হবে।
advertisement
শুক্রবার নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে ২৮ দফায় আপত্তি জানিয়ে অরূপ বিশ্বাস দাবি করেছেন, ৬ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভবনে সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার সৌমেন্দ্রনাথ দাসের উপস্থিতিতে মনোনয়নপত্রের স্ক্রুটিনি হয়। সেই সময় বিশ্বজিৎ সিনহার হলফনামা (ফর্ম–২৬) নিয়ে একাধিক অসঙ্গতি ও ঘাটতি সামনে এলেও সেগুলি শোনার বা বিবেচনা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
অরূপ বিশ্বাসের তরফে তোলা অভিযোগে বলা হয়েছে, ৫ মার্চ বিশ্বজিৎ সিনহা ওরফে রাহুল সিনহা তাঁর মনোনয়নপত্র ও হলফনামা জমা দেন। প্রাথমিক পরীক্ষার সময় রিটার্নিং অফিসার নিজেই জানান, ফর্ম–২৬–এর সব ঘর পূরণ করা হয়নি। সেই ত্রুটির তালিকাও প্রার্থীকে দেওয়া হয়। কিন্তু পরে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের ওয়েবসাইটে যে হলফনামা আপলোড করা হয়, সেখানে দেখা যায় সব ঘর পূরণ করা হয়েছে বা ‘নট অ্যাপ্লিকেবল’ লেখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: পাইকপাড়ায় সাত সকালে হঠাৎ বিস্ফোরণ! বন্ধ ঘর থেকে পর পর শব্দ, ঘটনাস্থলে বম্ব স্কোয়াড
অরূপ বিশ্বাস নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রার্থীর হলফনামার প্রতিটি ঘর পূরণ করা বাধ্যতামূলক এবং কোনও তথ্য ফাঁকা রাখা যাবে না। কারণ ভোটারের অধিকার রয়েছে প্রার্থীর সম্পূর্ণ তথ্য জানার।
তৃণমূল কংগ্রেস একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লিখেছে, ‘রাজ্যসভার বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ সিনহার মনোনয়ন স্ক্রুটিনিতে যে ধরনের পদ্ধতিগত অনিয়ম হয়েছে, তা নথিবদ্ধ করে আমরা নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখেছি।
বিজেপি প্রার্থীর জমা দেওয়া হলফনামায় (Form-26) তথ্য গোপন করা হয়েছে, অসঙ্গতি এবং অসম্পূর্ণ তথ্য রয়েছে। যেখানে অস্পষ্ট আর্থিক ঘোষণা এবং সম্পদের অসম্পূর্ণ বিবরণ থেকে শুরু করে সম্পত্তি, যানবাহন, দেনা-পাওনার এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত নানা গরমিল রয়েছে।
সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হল, স্ক্রুটিনির সময় প্রতিনিধিরা এই ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলেও রিটার্নিং অফিসার তা অগ্রাহ্য করেছেন। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, স্ক্রুটিনি কার্যত শেষ হয়ে যাওয়ার পর একটি “সংশোধিত হলফনামা” সামনে আনা হয়, যা আগে যাচাইয়ের জন্য দেওয়া হয়নি বা জনসমক্ষে আপলোডও করা হয়নি।
এইভাবে পিছনের দরজা দিয়ে তথ্য সংশোধন করার চেষ্টা কেবল সুপ্রিম কোর্টের আদেশ ও রায়কেই অমান্য করে না, বরং ভোটারদের অবহতির জন্য বাধ্যতামূলকভাবে তথ্য প্রকাশের যে নিয়ম রয়েছে সেটির উদ্দেশ্যকেও ব্যর্থ করে দেয়। তাই আমরা নির্বাচন কমিশনকে অবিলম্বে এই অনিয়মগুলি খতিয়ে দেখার, ত্রুটিপূর্ণ স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়াটিকে বাতিল ঘোষণা করার এবং এই মনোনয়নের বৈধতা পুনর্বিবেচনা করার অনুরোধ জানিয়েছি।’
