রবীন্দ্র সরোবর কাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয়েছে রাহুল দাস ওরফে বাবু শোনা (৪০) এবং শুভঙ্কর রায় ওরফে শুভ (৩২)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাহুল দাস কসবার জগন্নাথ ঘোষ রোডের বাসিন্দা এবং শুভঙ্কর রায় লেক থানার চ্যাটার্জি রোড এলাকার বাসিন্দা। দু’জনের বিরুদ্ধেই রবীন্দ্র সরোবরের ঘটনার সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
advertisement
এদিকে কাঁকুলিয়া কেসের আদালত পর্বে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, এই ঘটনার মূল কিংপিন খুনের মামলায় জামিনে রয়েছে এবং বর্তমানে পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আগ্নেয়াস্ত্র কোথা থেকে এল, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। আদালতে সরকারি আইনজীবী জানান, ঘটনার দিন ৪০ থেকে ৫০টি বাইকে করে যারা এসেছিল, প্রত্যেকের কাছেই আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। নাম না করেই সোনা পাপ্পুর দিকেও ইঙ্গিত করা হয় সরকারি পক্ষের তরফে।
লোকসভায় চেয়ার লক্ষ্য করে কাগজ ছোড়ায় বরখাস্ত ৮ বিরোধী সাংসদ! ‘চরম অপমান!’ বললেন স্পিকার
অন্যদিকে অভিযুক্তদের আইনজীবীর পাল্টা প্রশ্ন, তিন দিন কেটে গেলেও কেন এখনও কিংপিনকে গ্রেফতার করা হল না। এই মামলার প্রথম এফআইআরে যাঁদের নাম ছিল, তাঁদের মধ্যে কয়েকজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে বলে আদালতে জানানো হয়।
আলিপুর আদালত বাবলু সাউ ও ইন্দ্রজিৎ মাঝিকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি জয়ন্ত নস্কর ওরফে সোনু এবং দেবাশিস মণ্ডলকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ঘটনার নেপথ্যে সংগঠিত অপরাধচক্রের যোগ রয়েছে কি না, সেই দিকেও নজর রয়েছে পুলিশের।
প্রসঙ্গত, দক্ষিণ কলকাতার গোলপার্ক এলাকা রবিবার সন্ধ্যায় দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশি অভিযানে দু’পক্ষ মিলিয়ে মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবীন্দ্র সরোবর থানার অদূরে কাঁকুলিয়া রোড ও পঞ্চাননতলা সংলগ্ন এলাকায় সংঘর্ষ ঘিরে গুলি ও বোমাবাজির অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় দু’জন আহত হন এবং গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৮টা নাগাদ পঞ্চাননতলা এলাকার একটি ক্লাবে পিকনিক চলাকালীন প্রথমে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই তা সংঘর্ষে পরিণত হয়। অভিযোগ, উভয় পক্ষের লোকজন রাস্তায় নেমে ইট-পাটকেল ছোড়ে, বোমা ফাটায় এবং গুলি চালানো হয়।
