রাজ্য ভাগের এই খবর নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হতেই পদক্ষেপ করে কেন্দ্রীয় সরকার৷ পিআইবি-র পক্ষ থেকে এক্স হ্যান্ডেলে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, রাজ্য ভাগের এই খবর পুরোপুরি ভুয়ো৷ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বাংলা এবং বিহার ভেঙে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির এরকম কোনও প্রস্তাব বিবেচনাধীনও নেই বলেও পিআইবি-র বিবৃতিতে জানানো হয়েছে৷
advertisement
গতকাল থেকেই সমাজমাধ্যমে একাধিক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্ট করে দাবি করা হয় বিহারের চারটি এবং বাংলার দুটি জেলা নিয়ে নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক৷ বিহারের পূর্নিয়া, আরারিয়া, কিসানগঞ্জ ও কাটিহার এবং পশ্চিমবঙ্গের মালদহ ও উত্তর দিনাজপুর জেলা নিয়ে নতুন এই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল গঠন করা হবে বলে ওই পোস্টগুলিতে দাবি করা হয়৷ শুধু তাই নয়, নিরাপত্তার দিক থেকে কৌশলগত ভাবে গুরুত্বপূর্ণ চিকেনস নেকও এই নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মধ্যে পড়বে বলে দাবি করা হয়৷
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বঙ্গভাগের এই দাবি সমাজমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে৷ এ দিন সকালে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘বাংলা-বিহার ভাগ করে নাকি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে। একবার বাংলায় হাত দিয়ে দেখাক! বেশি বাড়াবাড়ি করলে দিল্লির সরকার ফেলে দেওয়া হবে। শয়তানরাই কাউকে কাউকে এই বিষয়টি খাইয়েছে। বাংলা-বিহার ভাগ করে নাকি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে। আমি বলি, একবার বাংলায় হাত দিয়ে দেখাক! এত অহঙ্কার কীসের? চন্দ্রবাবু নায়ডুর দয়ায় টিকে রয়েছে এই সরকার। টিমটিম করে জ্বলছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে দিল্লির সরকার ফেলে দেওয়া হবে।”
মুখ্যমন্ত্রীর এই হুঁশিয়ারির পর এ দিন দুপুরে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো-র পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে শিলিগুড়ি করিডরের কাছে পশ্চিমবঙ্গ এবং বিহারের কয়েকটি জেলা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল তৈরির কথা বিবেচনা করছে৷ এই দাবি পুরোপুরি ভুয়ো৷ কেন্দ্রের কাছে এরকম কোনও প্রস্তাব বিবেচনাধীন নেই৷
ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ দিন বিকেলে ফের প্রসঙ্গটি তোলেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়৷ তখন মুখ্যমন্ত্রী জানান, আমি সকালে এই প্রসঙ্গ তুলেছিলাম। দুপুরে এর জবাব এল।
