নারীদিবস উপলক্ষে নিজের বার্তার শুরুতেই তিনি লিখেছেন—
“আমার লক্ষ্মী আজকের দিনে সবারে করে আহ্বান,
আমার লক্ষ্মী ক্লান্তি ভুলে গায় জীবনের জয়গান।।”
পরীক্ষা শুরুর আগেই ৫৭ জনের পরীক্ষা বাতিল! SSC গ্রুপ ডি দিতে যেতে হলে কোন নিয়ম মানতেই হবে?
তিনি লেখেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভক্ষণে সারা বিশ্বের সবাইকে তিনি শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন। একই সঙ্গে বাংলার মাটির ঐতিহ্য স্মরণ করে তিনি কুর্নিশ জানান এই বাংলার মাটিকে। তাঁর কথায়, এ মাটি প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, মাতঙ্গিনী হাজরা, কল্পনা দত্ত, বীণা দাশ, সুনীতি চৌধুরী এবং মাদার টেরিজার মাটি।
advertisement
নারীদিবসের দিনেই একটি বিশেষ উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের টাকা দেওয়ার কথা ছিল আগামী এপ্রিল মাস থেকে। কিন্তু যুবসমাজকে সম্মান জানিয়ে গতকাল থেকেই ওই প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রায় এক কোটি আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক একাউন্টে ইতিমধ্যেই টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পাশাপাশি তিনি কেন্দ্র সরকারের সমালোচনাও করেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের কাজ মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়, বরং মানুষকে হয়রানি করা। গ্যাসের দাম বাড়ার প্রভাব সাধারণ মানুষের হেঁসেলে পড়বে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এই প্রসঙ্গে তিনি জানান, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বাংলার মহিলারা কালো শাড়ি পরে পথে নামবেন।
এরপর আরেকটি কবিতার অংশ তুলে ধরে তিনি লেখেন—
“আমার লক্ষ্মী প্রতিবাদ জানায়, কন্ঠে তার আগুন,
আমার লক্ষ্মী দেশ জয় করে, সবারে বলে – জাগুন।।”
পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলার প্রতিটি মেয়ে রাজ্যের গর্ব এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে তাঁদের অবদান অপরিসীম। তাঁর মতে, শুধু বছরের একটি দিন নয়, প্রতিটি দিনই নারী দিবস হওয়া উচিত। তিনি লেখেন, যে সমাজে মেয়েরা ভালো থাকে না, সেই সমাজ কখনো ভালো থাকতে পারে না।
নারীদের অগ্রগতির জন্য রাজ্য সরকার একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বর্তমানে উপভোক্তার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৪১ লক্ষ। ভাতার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। তপশিলী জাতি ও আদিবাসী পরিবারের মহিলারা এখন মাসে ১৭০০ টাকা এবং অন্যান্যরা মাসে ১৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের স্মার্টকার্ড পরিবারের মহিলা সদস্যের নামে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, প্রায় ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলা এই কার্ড পেয়েছেন। স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে কন্যাশ্রী প্রকল্পের কথাও তিনি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, প্রায় এক কোটি ছাত্রী বর্তমানে কন্যাশ্রীর আওতায় রয়েছে এবং UNESCO তে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছে এই প্রকল্প।
রূপশ্রী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২৩ লক্ষ মহিলাকে বিয়ের জন্য এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি সবুজসাথী প্রকল্পের আওতায় ১ কোটি ৪৮ লক্ষ সাইকেল দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৭৯ লক্ষ মেয়েদের জন্য।
মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর দাবি, রাজ্যে ১৭টি মাদার এন্ড চাইল্ড হাব এবং গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ১৩টি ওয়েটিং হাট তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হার ৬৮.১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯৯.১৪ শতাংশ হয়েছে।
নারী নিরাপত্তার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর পোস্টে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা দেশের সেরা এবং কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্য অনুযায়ী কলকাতা দেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহর। নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে কলকাতা পুলিশের উদ্যোগে পিঙ্ক বুথ এবং অল-উইমেন ‘SHINING’ মোবাইল পরিষেবা চালু হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এছাড়াও নারী সুরক্ষার জন্য ‘অপরাজিতা বিল’, ৪৯টি মহিলা থানা এবং মহিলাদের জন্য ৫২টি ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতে ৫০ শতাংশ মহিলা আসন সংরক্ষণ কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
‘আনন্দধারা’ প্রকল্পের আওতায় ১.২১ কোটি মহিলাকে নিয়ে ১২ লক্ষেরও বেশি স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি কর্মরত মহিলাদের জন্য ৭৩০ দিনের সবেতন চাইল্ড কেয়ার লিভ এবং ‘কর্মাঞ্জলি’ প্রকল্পের আওতায় ১৩টি হস্টেল তৈরির কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পোস্টের শেষে তিনি আবারও কবিতার মাধ্যমে বার্তা দেন—
“আমার লক্ষ্মী ঘরে ঘরে জ্বেলেছেন শুভ আলো,
আমার লক্ষ্মীরা ভালো থাকুক, হোক বিশ্ববাংলার ভালো।।
আমার লক্ষ্মী মা-মাটি-মানুষ, ভয়কে করেনা ভয়,
ওরা দুর্জয়, ওরা দুর্গম, ওরা দুরন্তর বরাভয়।।
আমার লক্ষ্মী ডানা মেলে কখনো হয় পক্ষী,
ওরাই মোদের পাহারাদার, ওরাই মোদের রক্ষী।।
আমার লক্ষ্মী চন্দ্র – সূর্য, আকাশে জ্বলে তারা,
আমার লক্ষ্মী ধন্য ধান্যে, নবান্নে দিয়ে ভরা।।”
