বুধবার নেতাজি ইন্ডোরে ইমাম, মোয়াজ্জেমদের সভায় হাজির হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যে এই অশান্তির জন্য সরাসরি নিশানা করলেন কেন্দ্রীয় সরকারকে। কেন্দ্রের নীতি নিয়ে অভিযোগ তুলে মমতা বলেন, ‘তোমরা শিক্ষকদের চাকরি কেন খেলে? ত্রিপুরাতে বলেছিলে শিক্ষকদের চাকরি দেবে? দিয়েছ? উত্তর প্রদেশে ৬৯ হাজার চাকরি গিয়েছে। বড় বড় কথা বলছে যোগী। সবাইকে ভয় দেখিয়ে রেখেছে।’
advertisement
আরও পড়ুন: ‘বাইরে মুভমেন্ট করবেন না’, ওয়াকফ প্রতিবাদে বিকল্প পথ জানিয়ে বড় বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর
নেতাজি ইন্ডোরে মমতার দাবি, ‘আগামী একটা বছর ধৈর্য ধরতে হবে। দিল্লিতে নতুন সরকার হবে। দরকার হলে যে আইনগুলো হয়েছে মানুষ বিরোধী, সেই আইনগুলো আবার সংশোধন করতে হবে। বাংলায় আন্দোলন করে লাভ নেই, দিল্লিতে আন্দোলন করুন।’ কেন এমন দাবি মমতার?
মমতা আরও বলেন, ‘আমার নামে জিন্দাবাদ দিয়ে লাভ নেই। ভারতীয় সংবিধানের নামে জিন্দাবাদ বলুন। ওয়াকফ প্রপার্টি অনেক হিন্দুরাও ডান করেছে। অনেক ওয়াকফ প্রপার্টি সোশ্যাল কাজ করে জন্য ডান করেছে হিন্দুরাও। অনেক ওয়াকফ প্রপার্টিতে হিন্দুরাও থাকে। বিজেপি আর কত ক্ষমতা নিতে চান? আপনাদের কি একার সরকার? দেখুন চন্দ্রবাবু নাইডু চুপচাপ, নীতিশ কুমার দেখুন চুপচাপ। আপনারা তো ওঁনাদের ভোট দেন। আপনাদের কি ভোট দেওয়া উচিত ছিল? একদম উচিত ছিল না। আপনার জন্য ওয়াকফের জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হত। আপনি শুধু একটা বিল করেছেন।
মমতার বার্তা. ‘দরকার হলে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলন করুন। রাস্তায় থাকুন। আমি বলছি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরাও থাকবেন। ইন্ডিয়া টিম-এর লোকেরাও থাকবেন। হিন্দু ভাইবোনদের বলব, এটা বিজেপি প্ররোচণা দিচ্ছে। ওদের সম্পত্তিতে হাত দিচ্ছে। আপনারও সম্পত্তিতে হাত দিলে আপনাদের গায়ে জ্বালা হত। তবুও আমরা প্রতিবাদ করেছি। সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়েছে।’
মুখ্যমন্ত্রী ওয়াকফ প্রতিবাদীদের বিশেষ বার্তা দিয়ে বলেন, ‘বাইরে মুভমেন্ট করবেন না। দরকার হলে ইনডোর স্টেডিয়ামের ভিতরে করুন। আমরা শান্তি চাই।’ সভামঞ্চে দাঁড়িয়ে মমতা বলেন, ‘‘মিটিংটা আমি ডাকেনি, সব ইমামরা ডেকেছেন। আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তাই আমি এসেছি।’’ তাঁর কথায়, ‘‘আমার যেমন অধিকার নেই ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর অধিকার করা, তেমনই আপনারও অধিকার নেই কারোও ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপর অধিকার নেওয়া। আমাদের সাংসদেরা কোর্টে কেস-ও করেছে।’’
সোমরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়
