আর এবার ধর্মতলার ধরনা মঞ্চ থেকে রাজ্যের রাজ্যপাল পরিবর্তন প্রসঙ্গে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি বলেন, ”রাজ্যপালকে ভয় দেখিয়ে সরানো হয়েছে। আমি সব জানি। রাজভবন দলীয় অফিস হবে। টাকা বিলোবে। নতুন রাজ্যপাল বিজেপির প্যারেড করা ক্যাডার। জেনে রাখুন বাংলা অন্য। তামিলনাড়ুতে যা করেছে, স্ট্যালিনকে অনেক জবাব দিতে হয়েছে। ধনখড়কে নিয়ে গেল ভোটের পরে। তারপর উপরাষ্ট্রপতি। তারপর কী হল?”
advertisement
এরপরই মমতার সংযোজন, ”অজিত পওয়ারের দুর্ঘটনার সময়ে কী বলেছিলাম। আনন্দ বাবুকে সরানো হল কেন, সব জানি। থ্রেট করা হয়েছে। সবাই চায় না রাজভবন দলীয় অফিস হোক।”
প্রসঙ্গত, বাংলার নতুন রাজ্যপাল আর এন রবির জন্ম পটনায়। ১৯৭৪ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি। প্রথম কর্মজীবনে কিছুদিন সাংবাদিকতা করেছিলেন৷ ১৯৭৬ সালে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস)-এ যোগ দেন। একসময় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-এর দায়িত্বও সামলেছিলেন রবি। দেশের গোয়েন্দা বিভাগ (আইবি)-এ কাজ করার সময়ে জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় বিদ্রোহ দমন করেন তিনি।
২০১২ সালে আইপিএস পদ থেকে অবসর নেন রবি৷ তারপরে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের যুগ্ম গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে নিযুক্ত হন৷ ২০১৪ সালে নাগাল্যান্ডের সমস্যা সমাধানে তাঁকেই দায়িত্ব দেয় কেন্দ্র৷ জানা যায়, দীর্ঘ ৭০ বছর ধরে সেখানে চলতে থাকা অস্থির অবস্থা কার্যকর ভাবে সামলানোর বিষয়ে ‘ফুল মার্কস’ পেয়ে পাশ করেছিলেন৷ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি চুক্তিতে সই করতে রাজি হয়ে গিয়েছিল। নাগাল্যান্ডে শান্তি ফিরেছিল। এরপরে ২০১৮ সালে তাঁকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের ডেপুটি হিসাবে নিযুক্ত করা হয়৷ জানা যায়, সেই সময় তাঁর উপরেই দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নীতির দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল৷ তবে তার কয়েক মাস পরেই, ২০১৯ সালের ১ অগাস্ট তাঁকে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল হিসাবে নিযুক্ত করা হয়৷ ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই দায়িত্বেই ছিলেন আরএন রবি৷ এর পাশাপাশি সামলান মেঘালয়ের রাজ্যপাল হওয়ার অতিরিক্ত দায়িত্ব৷ তারপরেই তাঁকে ডিএমকে শাসিত এমকে স্টালিনের তামিলনাড়ুতে রাজ্যপাল হিসবে দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ সেখানে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বারবার সংঘাত৷ এখন ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসাবে নিযুক্ত হলেন তিনি৷
