এ বার তৃণমূলের অন্যতম প্রতিশ্রুতি, দুয়ারে সরকারের আদলে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’৷ প্রতিটি ব্লক, শহরে দুয়ারে চিকিৎসা নামে এই স্বাস্থ্য শিবির করা হবে বলে কালীঘাট থেকে ঘোষণা করলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷
আরও পড়ুন: ‘ঘোষিত প্রেসিডেন্ট রুল করে দিয়েছে,’ বিস্ফোরক অভিযোগ মমতার! কমিশনকে বললেন বিজেপির ‘তোতাপাখি’
সাম্প্রতিক অতীতে ধীরে ধীরে বিভিন্ন জেলায়, গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা শুরু করেছিল তৃণমূল সরকার৷ সেই প্রকল্পকেই ক্ষমতায় এলে আরও ব্যাপক ভাবে শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তৃণমূল৷
advertisement
বৃহস্পতিবার নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দুয়ারে চিকিৎসা হবে এবার৷ দুয়ারে ক্যাম্প হবে। স্বাস্থ্যসাথী আছে আমাদের৷’’ দুয়ারে চিকিৎসা প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর, প্রতি ব্লকে ক্যাম্প হবে, দুয়ারে ক্যাম্প হবে বলে জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী৷
তৃণমূলের ইস্তেহারে বলা হয়েছে, ‘‘স্বাস্থ্য পরিষেবা এবার পৌঁছে যাবে আপনার ঘরের আঙিনায়। প্রতিটি ব্লক ও টাউনে প্রতি বছর আমার সরকার আয়োজন করবে ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ শিবির, যাতে হাতের নাগালেই আপনারা পাবেন উন্নতমানের স্বাস্থ্য পরিষেবা।’’
এর পাশাপাশি কয়েক হাজার সরকারি স্কুলের আধুনীকিকরণের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী৷ এই স্কুলগুলিতে ই লার্নিং সহ আধুনিক পঠনপাঠনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন মমতা৷ নিয়োগ করা হবে শিক্ষকও৷
এ ছাড়াও, একাকী প্রবীণদের দেখাশোনার জন্য বিশেষ প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন মমতা৷ আগামী দিনে রাজ্যে নতুন সাত থেকে আটটি জেলা এবং নতুন পুরসভা তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
ইতিমধ্যেই গ্রামে গ্রামে বিশেষ অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা শুরু করেছে তৃণমূল সরকার৷ এই ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে বিভিন্ন রকম চিকিৎসা পরিষেবা থাকে। প্রয়োজনীয় বিভিন্ন রকম ঔষধ, ইসিজি, ইউএসজি, এক্স-রে ও অক্সিজেন পরিষেবা মেলে। এতদিন মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে হলে হাসপাতাল, স্বাস্থ্য কেন্দ্র কিংবা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে পৌঁছতে হত। এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্রে শিশু, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে গর্ভবতী মহিলা, সকলেই পরিষেবা পান। আরও সহজে চিকিৎসা পরিষেবা মেলে।
প্রতি মাসের নির্দিষ্ট দিনে নির্দিষ্ট গ্রামে পৌঁছয় এই চিকিৎসাকেন্দ্র। বিনামূল্যে রক্ত পরীক্ষা, ইসিজি-সহ নানান শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা করতে পারবেন সাধারণ মানুষ। মানুষের প্রথমিক চিকিৎসাও করবেন এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্রের ডাক্তাররা।
