এদিন মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘির প্রচারসভার মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আপনারা জানেন এখন প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা আমার হাতে নেই। ওরা অমিত শাহর কথায় চলে। সবাই চেঞ্জ হয়ে গেছে। ইলেকশন কমিশন সুপার রাষ্ট্রপতি শাসন চালাচ্ছে৷’’
মালদহের ঘটনার উল্লেখ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গেল, ‘‘এরা আমায় কোনও খবর জানায় না। রাতে এক সাংবাদিকের থেকে জানলাম, যে জাজেদের ঘেরাও করে রেখেছে। ভবানীপুরেও সংখ্যালঘুদের নাম বাদ দিয়েছে, এখানেও নাম বাদ দিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট ট্রাইব্যুনাল করে দিয়েছে। যাদের নাম বাদ হয়েছে আপনারা আপিল করবেন। আইনজীবী আমরা দেব৷’’
advertisement
তারপরেই নাম না করে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি এবং হুমায়ুন কবীরকে একযোগে আক্রমণ করে তৃণমূলনেত্রীর বিশেষ সতর্কবাণী, ‘‘আপনারা মনে রাখবেন, শান্তিপূর্ণ ভাবে আন্দোলন করতে হবে। হায়দরাবাদ থেকে একজন উড়ে এল। এখানের গদ্দারদের হাতে টাকা দিল। এখানে বিজেপির গেম প্ল্যান এটা। নিজেদের অধিকার রক্ষা করুন। আমি তো বলেছি, আপনাদের কাউকে ডিটেনশন ক্যাম্প এ যেতে দেব না। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা নিজের হাতে তুলে নিলে সিবিআই এনআইএ দিয়ে অ্যারেস্ট করবে। সবটা ইলেকশন কমিশনের দোষ। তারা প্রটেকশন দিতে পারেনি।’’
তিনি বলেন, ‘‘সিএস ডিজি কেউ আমায় কন্টাক্ট করে না। আমার হাত থেকে যখন সব কেড়ে নিয়েছেন। তাহলে এখন আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখার দায়িত্ব আপনাদের। কই আমার সময় তো আমি করতে দিইনা। কংগ্রেসের লোকও আছে এর মধ্যে। SIR নিয়ে যখন আন্দোলন হয়েছে, কোথায় ছিলেন? মাথায় পাগড়ি বাঁধলেই হবে।’’
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ রাজ্যে ভোট ঘোষণা হয়েছে। ওই রাতেই রাজ্যের মুখ্যসচিবের পদ থেকে নন্দিনী চক্রবর্তীকে সরিয়ে দেয় কমিশন। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্রসচিবের পদ থেকে সরানো হয় জগদীশপ্রসাদ মীনাকেও। এরপর থেকে দফায় দফায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলাজুড়ে বদল করা হয়েছে পুলিশ এবং প্রশাসনিক উচ্চ পদস্থ আধিকারিকদের৷
এদিন মালদহের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক ব্যর্থতা উল্লেখ হতে রাজ্যের আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী আদালতকে জানান, ‘‘কমিশন একাধিক আধিকারিককে রাজ্যের বাইরে বদলি করে দিয়েছে, আমাদের কিছু করার নেই। ’’কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘‘আপনার অফিসিয়ালরা সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ পালনে ব্যর্থ৷’’ এই একই কথা শোনা গেল এবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও৷
