পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২০ সালের জুলাই মাসে বেলেঘাটার বাসিন্দা ওই বৃ্দ্ধাকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করে বিধান বসু নামে এক যুবক৷ অভিযুক্ত যুবক নির্যাতিতা বৃদ্ধার বাড়িতেই ভাড়া থাকত৷ বিধান ওই বৃদ্ধাকে ধর্ষণ করে বেরনোর সময় তাকে দেখে ফেলেছিলেন বৃদ্ধার বাড়িরই অন্য এক ভাড়াটে৷
advertisement
ঘটনার পরই এনআরএস হাসাপাতালে বৃদ্ধার শারীরিক পরীক্ষা করিয়ে ধর্ষণের মামলা রুজু করে পুলিশ৷ ২০২০ সালের ১৬ জুলাই রাতেই অভিযুক্ত বিধান বসু ওরফে রাজুকে গ্রেফতার করা হয়৷
যদিও করোনা অতিমারির সময় ২০২১ সালে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়৷ কিন্তু তাঁর দেওয়া গোপন জবানবন্দির ভিত্তিতেই মামলা চলতে থাকে৷ যদিও করোনা পর্বেই জামিন পান অভিযুক্ত যুবক৷ ২০২৩ সালে শুরু হয় বিচার প্রক্রিয়া৷ ১১ জন সাক্ষীর বয়ান রেকর্ড করে আদালত৷
এ দিনও অভিযুক্ত বিধান রায়ের শাস্তি ঘোষণার আগে তাঁর বক্তব্য শোনেন বিচারক৷ তিনি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি বিধান বসু? আপনাকে কাল বলেছিলাম আপনি দোষী৷ সাজার বিষয়ে আপনার কী বক্তব্য?’
জবাবে অভিযুক্ত দাবি করে, ‘আমি বৃদ্ধার বাড়িতে ভাড়া থাকতাম। প্রায়শই উনি টাকা চাইতেন। আমি দেয়নি বলে আমাকে ফাঁসান হয়েছে। আমি নির্দোষ।’ জবাবে বিচারক অনির্বাণ দাস বলেন, ‘আপনি বিবাহিত? বাড়ি থেকে কেউ এসেছেন?’ অভিযুক্ত বিধান জানায়, তিন বছরের সন্তানকে নিয়ে তাঁর স্ত্রী এসেছেন আদালতে৷ একথা শোনার পর বিচারক দাস বলেন, ‘আপনি যা বলছেন তা প্রমাণ করতে পারেননি, এটা দুর্ভাগ্যজনক৷’ এর পরেই অভিযুক্ত বিধান বসুর ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দশ লক্ষ টাকা জরিমানার নির্দেশ দেন বিচারক৷ জরিমানা অনাদায়ে আরও দশ মাস জেলের শাস্তি দেওয়া হয়৷
বিচারকের রায় ঘোষণার পরই আদালতের ভিতরে কান্নায় ভেঙে পড়েন সাজাপ্রাপ্ত বিধান বসুর স্ত্রী৷ যদিও এই শাস্তি নিয়ে অভিযুক্তের আইনজীবী কোনও মন্তব্য করতে চাননি৷
