নির্মাণ, বৈদ্যুতিক, অপারেটিং, সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি সমন্বিত মাল্টি-ডিপার্টমেন্টাল টিম এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে। শিয়ালদহ বিভাগের ডিআরএম (DRM) শ্রী রাজীব সাক্সেনার দক্ষ নেতৃত্বে, ট্রেন চলাচলে ন্যূনতম বিঘ্ন ঘটিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দলটি সফলভাবে কাজটি শেষ করেছে।
ইয়ার্ড মডিফিকেশনের পরিচালনগত সুবিধা: তিনটি ‘কমন লুপ লাইন’ (Common Loop lines)-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে স্টেশনে একসঙ্গে আরও বেশি ট্রেন থাকতে পারে। দীর্ঘতর ট্রেন হ্যান্ডেল করার সুবিধার্থে লুপ লাইনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে যাত্রী বহনের ক্ষমতা বাড়বে।অপারেশনাল রুটের সংখ্যা ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে, যা ট্রেন পরিচালনার নমনীয়তা বাড়াবে এবং রুট সেট করার সময় কমিয়ে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা উন্নত করতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে একাধিক ট্রেন চলাচলের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে, যা স্টেশনে আরও মসৃণ এবং দক্ষ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করবে। ট্রেন চলাচলে নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি নতুন ইলেকট্রনিক ইন্টারলকিং (Electronic Interlocking) সিস্টেম চালু করা হয়েছে।
advertisement
উন্নত অপারেশনাল মনিটরিংয়ের জন্য বহরমপুর কোর্ট স্টেশনে ডুয়াল ভিজ্যুয়াল ডিসপ্লে ইউনিট (VDU) স্থাপন করা হয়েছে। মেইন লাইনে ডুয়াল এমএসডিএসি (MSDAC) সিস্টেম প্রদান করা হয়েছে, যা ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা বাড়াবে। লুপ লাইনে রেডান্ড্যান্ট ডিসি ট্র্যাক সার্কিট-সহ এমএসডিএসি ট্র্যাক ডিটেকশন ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা কার্যক্ষম নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করবে।
আপগ্রেড করা ইয়ার্ড লেআউটকে সচল রাখতে ১১টি নতুন পয়েন্ট মেশিন স্থাপন করা হয়েছে।১২৯/ই এবং ১৩২/টি নম্বর লেভেল ক্রসিং গেটে নতুন ইলেকট্রিক লিফটিং ব্যারিয়ার বসানো হয়েছে, যার ফলে গেট দ্রুত খোলা ও বন্ধ করা সম্ভব হবে। স্বয়ংক্রিয় ফায়ার ডিটেকশন এবং অ্যালার্ম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে।উন্নত বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার জন্য ফিউজ অ্যালার্ম সিস্টেম এবং আর্থ লিকেজ ডিটেক্টরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য প্রধান সুবিধা– প্ল্যাটফর্মে ভিড় হ্রাস: নতুন আইল্যান্ড প্ল্যাটফর্ম নম্বর ৪ এবং ৫ চালু হওয়ার ফলে যাত্রীদের জন্য অনেক বেশি জায়গা তৈরি হয়েছে, যা ব্যস্ততম সময়েও ট্রেন থেকে ওঠা ও নামার অভিজ্ঞতাকে আরও মসৃণ ও নিরাপদ করবে। বিলম্ব কমানো এবং উন্নত সময়ানুবর্তিতা: নতুন “সাইমালটেনিয়াস মুভমেন্ট” ক্ষমতার ফলে এখন একই সঙ্গে আপ এবং ডাউন উভয় দিক থেকে ট্রেন ঢোকা ও ছাড়া সম্ভব হবে। এটি সেই “বটলনেক” বা যানজট পরিস্থিতি প্রতিরোধ করবে যেখানে একটি ট্রেনকে প্ল্যাটফর্ম খালি হওয়ার জন্য স্টেশনের বাইরে অপেক্ষা করতে হত।
ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি: তিনটি কমন লুপ লাইন সংযোজন এবং বিদ্যমান লাইনের দৈর্ঘ্য বৃদ্ধির ফলে (লাইন ১-কে ৬৮০ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৮৯০ মিটার এবং লাইন ২-কে ৫৬৪ মিটার থেকে বাড়িয়ে ৮০৭ মিটার করা হয়েছে) স্টেশনের মোট ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিকাঠামো রেলওয়েকে প্রতিদিন আরও বেশি যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনা করতে সাহায্য করবে, যা ভবিষ্যতে পরিষেবা সম্প্রসারণের পথ প্রশস্ত করবে।
উন্নত নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা: যাত্রীরা নতুন প্রযুক্তির সুফল পাবেন, যার মধ্যে রয়েছে নিখুঁত ট্রেন শনাক্তকরণের জন্য ‘ফ্রাউশার’ (Frauscher) মেক মাল্টি সেকশন ডিজিটাল এক্সেল কাউন্টার (MSDAC) এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় সিগন্যালিং ব্যর্থতা রোধ করতে ডুয়াল ইন্টিগ্রেটেড পাওয়ার সাপ্লাই (IPS)।
আধুনিক সুযোগ-সুবিধা: এই উন্নয়নের মধ্যে লেভেল ক্রসিং গেটে (১২৯/ই এবং ১৩২/টি) নতুন ইলেকট্রিক লিফটিং ব্যারিয়ার এবং উন্নত ফায়ার ডিটেকশন সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা যাত্রী এবং স্থানীয় জনজীবন—উভয়ের জন্যই একটি নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করবে। এই পরিকাঠামোগত উন্নয়ন পূর্ব রেলের শিয়ালদহ বিভাগ জুড়ে পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
