একটি আসন্ন কাঠামোগত সঙ্কট:
প্রযুক্তিগত পরিদর্শনে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, উভয় কাঠামোর অবস্থাই অত্যন্ত জরাজীর্ণ। একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগকারী পথ হিসেবে বেনারস ব্রিজের কাজ বর্ষার আগে শেষ করতে চার মাসের নিরবচ্ছিন্ন সময়ের প্রয়োজন। কাজের উপযুক্ত সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় রেল জোর দিয়ে বলেছে যে, আর কোনো বিলম্ব প্রকল্পের সময়সীমাকে বিঘ্নিত করবে এবং রেল ও সড়ক যাত্রী উভয়ের জন্যই বিপদ বাড়িয়ে তুলবে।
advertisement
চাঁদমারি ব্রিজে নিরাপত্তার ঝুঁকি:
চাঁদমারি রোড ওভার ব্রিজের পরিস্থিতিকেও “সমানভাবে উদ্বেগজনক” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত অ্যাপ্রোচ স্প্যানগুলিতে নিম্নলিখিত সমস্যাগুলি দেখা গিয়েছে:
• লম্বালম্বি ফাটল এবং গুরুতর কাঠামোগত বিপর্যয়।
• পিডব্লিউডি (PWD) রক্ষণাবেক্ষণাধীন অংশের ভেঙে পড়া অংশ দিয়ে পথচারীদের নিচে পড়ে যাওয়ার বারবার দুর্ঘটনা।
• উপর থেকে ধ্বংসাবশেষ পড়ার কারণে নিচে রেল চলাচলের ঝুঁকি।
জনসাধারণের কাছে আবেদন:
রেল প্রশাসন জনসাধারণ এবং যাত্রীদের কাছে এই বিষয়ে সহযোগিতা ও সহমর্মিতার আবেদন জানিয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই কাজের সম্পূর্ণ খরচ রেলওয়ে বহন করছে এবং এতে রাজ্য সরকারের ওপর কোনো আর্থিক বোঝা নেই। ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল রাখতে রেলের প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় সেতু দুটি একের পর এক (sequential) প্রতিস্থাপনের কথা বলা হয়েছে।
যাইহোক, রেল আইনের ক্ষমতাবলে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছে যে, সেতুগুলো যদি চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে তবে তারা একই সাথে দুটি ব্রিজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হতে পারে। এমনটা ঘটলে হাওড়া করিডোরে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা এবং পূর্ব রেলের নিবিড় রেল পরিচালনায় ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটবে।
নিরাপত্তার প্রতি দায়বদ্ধতা:
একজন পদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আমরা একটি সম্ভাব্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতি এড়ানোর চেষ্টা করছি। স্থানীয় পুলিশের আগে সম্মত হওয়া ডাইভারশন প্ল্যান বা যান চলাচল ঘুরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা কার্যকর করতে দেরি হওয়ায় আমরা অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার পরিস্থিতির খুব কাছাকাছি চলে আসছি।” জননিরাপত্তার স্বার্থে এবং অঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করতে রাজ্য কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়ামাত্রই বাকি কাজ শুরু করার জন্য পূর্ব রেল সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
