বর্ধিত বাজেট– ২০০৯-১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গের জন্য গড় বার্ষিক রেল বাজেটের অনুমোদন ছিল প্রায় ৪,৩৮০ কোটি টাকা। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য অনুমোদন তিন গুণেরও বেশি বেড়ে ১৪,২০৫ কোটি টাকা হয়েছে। এই অভূতপূর্ব বৃদ্ধি স্পষ্টভাবে রাজ্যের রেলওয়ে পরিকাঠামোকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত দেয়।এই বর্ধিত বিনিয়োগে রাজ্যে বৃহৎ পরিকাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯৩,০০০ কোটি টাকার রেল প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে নতুন রেলপথ নির্মাণ, স্টেশন পুনর্নির্মাণ, সুরক্ষা উন্নয়ন এবং রেলওয়ের ক্ষমতা সম্প্রসারণ রয়েছে। এর লক্ষ্য হল রাজ্যের প্রতিটি অংশকে দ্রুত এবং উন্নত রেল যোগাযোগের মাধ্যমে সংযুক্ত করা।
advertisement
যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা আরও আধুনিক, সুবিধাজনক এবং বিশ্বমানের করার জন্য, পশ্চিমবঙ্গের রেলওয়ে স্টেশনগুলিকে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে বৃহৎ পরিসরে পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। এইউচ্চাভিলাষী কর্মসূচির অধীনে, রাজ্যের মোট ১০১টি রেলওয়ে স্টেশন পুনর্নির্মাণের জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় ৩,৬০০কোটি টাকা। এই স্টেশনগুলিকে উন্নত যাত্রী সুবিধা, আধুনিক পরিকাঠামো এবং আকর্ষণীয় অথচ কার্যকরী ডিজাইন দিয়ে আপগ্রেড করা হচ্ছে যাতে এগুলি আশেপাশের এলাকার জন্য শহরের কেন্দ্রস্থলেও পরিণত হতে পারে।
এখন পর্যন্ত, রাজ্যের নয়টি রেলওয়ে স্টেশনের পুনর্নির্মাণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে আনারা, বরাভূম, হলদিয়া, জয়চন্ডীপাহাড় জংশন, কল্যাণী ঘোষ পাড়া, কামাখ্যাগুড়ি, পানাগড়, সিউড়ি এবং তমলুক স্টেশন রয়েছে। এর মধ্যে, জয়চণ্ডী পাহাড় জংশন, কল্যাণী ঘোষপাড়া এবং পানাগড়ের পুনর্নির্মিত স্টেশনগুলি ইতিমধ্যেই উদ্বোধন করা হয়েছে।
এই উন্নত স্টেশনগুলিতে এখন উন্নত ওয়েটিং এরিয়া, উন্নত সাইনবোর্ডএবং লাইটিং, ডিজিটাল ইনফরমেশ্যন সিস্টেম, বৃহৎ সঞ্চালন এলাকা, ফুডকোর্ট, পার্কিং সুবিধা, সুগম চলাচলের জন্য পৃথক প্রবেশ এবং প্রস্থান পয়েন্ট, অ্যাক্সেসযোগ্যতার জন্য লিফট এবং এস্কেলেটর, পরিষ্কার পরিবেশ এবং নান্দনিকভাবে ডিজাইন করা স্টেশন ভবন রয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলির সঙ্গে সংযুক্ত করে বেশ কয়েকটি আধুনিক এবং উচ্চ প্রযুক্তির ট্রেন পরিষেবা পরিচালনা করছে।
বর্তমানে, পশ্চিমবঙ্গ থেকে এক জোড়া বন্দে ভারত স্লিপার এক্সপ্রেস পরিষেবা পরিচালিত হয়, যা দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণকে আরও আরামদায়ক এবং সুবিধাজনক করে তোলে। এছাড়াও, আঠারোটি বন্দে ভারত এক্সপ্রেস পরিষেবা এবং বাইশটি অমৃত ভারত এক্সপ্রেস পরিষেবা রাজ্যের প্রধান শহর এবং গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলিকে সংযুক্ত করছে। এই ট্রেনগুলি যাত্রীদের দ্রুত, আধুনিক এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ভ্রমণ অভিজ্ঞতা প্রদান করছে। এই পরিষেবাগুলি চালু হওয়ার ফলে ভ্রমণের সময় কমেছে এবং বিশ্বমানের রেল ভ্রমণ জনসাধারণদের জন্য সহজলভ্য হয়েছে।
২০১৪ থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১,৭১২ কিলোমিটার রেলপথ বৈদ্যুতিকরণ করা হয়েছে এবং রাজ্যের রেল নেটওয়ার্ক এখন ১০০% বৈদ্যুতিক হয়েছে। সুরক্ষা এবং সুগম চলাচলের জন্য, রাজ্যে ৫০০ টিরও অধিক রেলওয়ে ফ্লাইওভার এবং আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও, ভারতীয় রেলওয়ের স্বদেশী ট্রেন সুরক্ষা ব্যবস্থা, কবচের সম্প্রসারণ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই ১০৫ রুট কিলোমিটারেরও অধিক পথকবচ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত করা হয়েছে, এবং ১,০৪১ রুট কিলোমিটারে কাজ চলছে। মোট ৩,২০০ কিলোমিটার রুট জুড়ে কবচ বাস্তবায়নের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কামাখ্যাগুড়ি, তমলুক, হলদিয়া, বরাভূম, আনারা এবংসিউড়িতে পুনর্নির্মিত রেলওয়ে স্টেশনগুলি অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পের অধীনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শীঘ্রই উদ্বোধন করবেন।এর সঙ্গে, বেলদা ও দাঁতনের মধ্যে তৃতীয় রেললাইন এবংকলাইকুণ্ডা ও কানিমহুলির মধ্যে অটোমেটিক ব্লক সিগন্যালিং প্রজেক্টটিও জাতির উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হবে। এছাড়াও, পুরুলিয়া এবং আনন্দ বিহার টার্মিনাল (দিল্লি) এর মধ্যে একটি নতুন এক্সপ্রেস ট্রেন পরিষেবার সূচনা করা হবে। এই পরিষেবাটি পশ্চিমবঙ্গ এবং রাজধানীর মধ্যে একটিগুরুত্বপূর্ণ এবং সুবিধাজনক রেল সংযোগ প্রদান করবে।
এই সমস্ত পদক্ষেপ একসঙ্গে দেখলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে পশ্চিমবঙ্গে রেল উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায় লেখা হচ্ছে। এই পরিবর্তন রেল প্রকল্পের বাইরেও বিস্তৃত, এটি রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাণিজ্যিক কাজকর্ম এবংসামাজিক সংযোগকেও ত্বরান্বিত করছে।
