তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্থানীয়দের মধ্যে পম্পা নামেই পরিচিত ছিলেন রূপবাণী দাস৷ দীর্ঘদিন ধরে নিজের বিউটি পার্লার চালাতেন তিনি। প্রায় ১৫ বছরের পুরনো এই পার্লারে ব্যবসাও ভাল চলছিল, নিয়মিত গ্রাহকদের ভিড়ও থাকত পার্লারে। রূপবাণীদেবীর পরিবারে স্বামী ও দুই সন্তান রয়েছে।
জানা গিয়েছে, সম্পর্কের টানে কয়েক মাস আগে হরিয়ানায় চলে যান পম্পা এবং সেখানে কিছুদিন পঙ্কজ নামে নিজের প্রেমিকের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। তবে মাস দুয়েক আগে তিনি কলকাতায় ফিরে আসেন। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি হয় পঙ্কজের সঙ্গে। পম্পা তাঁকে এড়িয়ে চলতে শুরু করেন এবং স্বামীর সঙ্গেই চলাফেরা করতেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে পঙ্কজ।
advertisement
মঙ্গলবার দুপুরে পম্পার স্বামী তাঁকে পার্লারে পৌঁছে দিয়ে চলে গেলে, সেই সুযোগে সেখানে পৌঁছয় পঙ্কজ। পার্লারের ভিতরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়, যা পরে হাতাহাতিতে গড়ায়।
এরপর দুজনের মধ্যেই গুরুতর আঘাত লাগে এবং ঘটনাস্থলেই পম্পা অচেতন হয়ে পড়েন। অভিযুক্ত পঙ্কজও গুরুতরভাবে আহত অবস্থায় পার্লারের বাইরে লুটিয়ে পড়ে। ঘটনাটি প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো অস্ত্র, রক্তমাখা পোশাক এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে। পার্লারটি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে এবং এলাকা ঘিরে তদন্ত চলছে।
দুজনকেই উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক রিপোর্টে ধারালো অস্ত্রের আঘাত ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যুর ইঙ্গিত মিলেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দুজনের মোবাইল ফোন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও অন্যান্য নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রুপবানীর স্বামী নরেন্দ্রপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অন্যদিকে, পঙ্কজের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। তাঁর ভাইয়ের দাবি, পম্পা হরিয়ানায় গিয়ে পঙ্কজের সঙ্গেই ছিলেন এবং তাঁকে স্ত্রী হিসেবেই পরিচয় দেওয়া হয়েছিল। মাস দুয়েক আগে কলকাতায় ফিরে এসে পঙ্কজের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি।
ঘটনার আগে দুজনের মধ্যে একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে রূপবাণীদেবী নিখোঁজ থাকায় নরেন্দ্রপুর থানায় একটি মিসিং ডায়েরিও দায়ের হয়েছিল।
এই ঘটনায় পঙ্কজের পরিবার আগামীকাল কলকাতায় আসছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
