আরাবুল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এ দিন মহম্মদ সেলিম বলেন, প্রথম কথা হচ্ছে আমরা বামফ্রন্ট দুর্নীতির বিরুদ্ধে, দুর্বত্তের বিরুদ্ধে, সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করছি৷ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করছি৷ সেজন্য কোনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ, গুন্ডা বদমায়েশ, মস্তান, লুটেরা, দুর্নীতিগ্রস্ত কাউকে দেখলে বামপন্থীরা দূরে সরিয়ে দিই৷ আমাদের মধ্যে এরকম দু একটা এরকম ঘুন ধরা পোকা ধরা কিছু পেলে ফেলে দিতে হয়৷ অতীতেও দিয়েছি, এখনও দিচ্ছি৷ আমাদের প্রার্থী তালিকা আপনারা দেখেছেন৷ সিপিআইএমএল এবং আইএসএফ যারা বামফ্রন্টের শরিক নয়, কিন্তু বামফ্রন্টের সহযোগী হিসেবে লড়বে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি এবং তৃণমূলকে পরাস্ত করবে বলে৷ ফলে যাকে আমরা পরাস্ত করব, তাকেই আবার বগলদাবা করব, এটা কোনও সুস্থ রাজনীতি হতে পারে না৷ সিপিএম, বামফ্রন্ট এটাকে অনুমোদন করছে না৷ কারণ গত ১৫ বছর ধরে যারা ঘর জ্বালিয়েছে, যারা অফিস জ্বালিয়েছে, মানুষ খুন করেছে, এমন কি পঞ্চায়েত ভোটেও আইএসএফ কর্মীকেই খুন করেছে৷ ফলে শুধু বামফ্রন্ট নয়, আইএসএফ-এর যাঁরা সমর্থক এবং দরদী আছেন, যাঁরা কষ্ট করে দল তৈরি করছেন, তাঁরাও এটা মেনে নেবেন না৷
advertisement
আরাবুলকে দলে নেওয়ার পর চরিত্র সংশোধনের কথা শোনা গিয়েছিল আইএসএফবিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির মুখে৷ যদিও আরাবুলের দল বদল প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বহু চর্চিত ওয়াশিং মেশিন তত্ত্বও টেনে এনেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক৷ মহম্মদ সেলিম বলেন, নির্বাচনের সময় এ ভাবে দল বদল করলে মানুষ, রাজনৈতিক দল কারও লাভ হয় না৷ গত বিধানসভা ভোটের আগে এবং পরেও আমরা বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে এরকম মুদ্রা বিনিময়ের মতো দল বদল দেখেছিলাম৷ যারা এপাশ ওপাশ যারা করে, বামপন্থীরা তাকে সমর্থন করে না৷ এটা কোনও ব্যক্তির বিষয় নয়৷ রাজনীতির মধ্যে যে জজ্ঞাল আছে তাদের আমরা অপসারণ করছি৷ আর এরকম জঞ্জাল একটা ডাস্টবিন থেকে আর একটা ডাস্টবিনে গেলে শুদ্ধ হয়ে যায় না৷ এখানে বিজেপি, তৃণমূলের মতো কোনও ওয়াশিং মেশিন নেই৷ যে একদিক দিয়ে চোর ঢোকালে অন্যদিক দিয়ে সাধু অথবা মৌলবী হয়ে বেরিয়ে আসবে৷ রাজনীতিতে নীতি, আদর্শ বলে একটা বিষয় আছে৷ সিপিএম কোনও ভাবে রিসাইকেল বিন হতে চায় না৷ আমরা আইএসএফ-কেও সেটা জানিয়ে দিয়েছি৷
এখনও পর্যন্ত বামেরা দু দফায় ২২৫টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে৷ অন্যদিকে ক্যানিং পূর্ব সহ ২৩টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে আইএসএফ৷ ভোটের দিন এগিয়ে আসলেও বাম-আইএসএফ জোট নিয়ে কোনও পক্ষ থেকেই চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি৷ এ দিন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক যে কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন, তাতে বাম আইএসএফ জোটই প্রশ্নের মুখে পড়ে গেল৷ সিপিএম নেতৃত্বের কড়া মনোভাবের পর নওশাদ সিদ্দিকি সহ আইএসএফ নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটাই এখন দেখার৷
