মহম্মদ সেলিমকে জবাব দিতে গিয়ে নওশাদ সিদ্দিকি আরও বলেছেন, ‘আমরা কোনও দলের লেজুড় বৃত্তি করতে পারব না৷’ নওশাদের এই মন্তব্যের পর বাম-আইএসএফ জোটের সম্ভাবনা আরও কমল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷
তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক দল বদল করার পর তাঁকে ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র থেকে প্রার্থীও করে ফেলেছে আইএসএফ৷ যদিও আরাবুলকে আইএসএফ দলে নেওয়া এবং তার পর রাতারাতি টিকিট দেওয়ায় চূড়ান্ত ক্ষুব্ধ সিপিএম সহ বাম নেতৃত্ব৷ আরাবুলকে নিয়ে তাঁদের আপত্তির কথা আইএসএফ নেতৃত্বকে জানিয়েও দেওয়া হয়েছে বলে এ দিন জানিয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম৷
advertisement
আরাবুল নিয়ে সিপিএম রাজ্য সম্পাদকের কড়া মন্তব্যের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে এ দিন নওশাদ সিদ্দিকি বলেন, ‘আইএসএফ-এর নীতি কী হবে, তা অন্য কোনও দল ঠিক করতে পারে না৷ সব দলের একটা নির্দিষ্ট নীতি আছে৷ আমরা কোনও দলের লেজুর হয়ে চলবে না৷ আরাবুল ইসলামের প্রার্থী হওয়া নিয়ে সেলিম সাহেব কী বলেছেন, এখনও জানি না৷ তবে আরাবুল ইসলামকে প্রার্থী করাটা আমাদের দলে অভ্যন্তরীণ বিষয়৷ সেটা তো অন্য কেউ ঠিক করে দিতে পারে না৷’
প্রসঙ্গত এ দিন আরাবুল ইসলামকে আইএসএফ-এর টিকিট দেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘কোনও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাবাজ, গুন্ডা বদমায়েশ, মস্তান, লুটেরা, দুর্নীতিগ্রস্ত কাউকে দেখলে বামপন্থীরা দূরে সরিয়ে দিই৷ আমাদের মধ্যে এরকম দু একটা এরকম ঘুন ধরা পোকা ধরা কিছু পেলে ফেলে দিতে হয়৷ অতীতেও দিয়েছি, এখনও দিচ্ছি৷ আমাদের প্রার্থী তালিকা আপনারা দেখেছেন৷ সিপিআইএমএল এবং আইএসএফ যারা বামফ্রন্টের শরিক নয়, কিন্তু বামফ্রন্টের সহযোগী হিসেবে লড়বে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি এবং তৃণমূলকে পরাস্ত করবে বলে৷ ফলে যাকে আমরা পরাস্ত করব, তাকেই আবার বগলদাবা করব, এটা কোনও সুস্থ রাজনীতি হতে পারে না৷ সিপিএম, বামফ্রন্ট এটাকে অনুমোদন করছে না৷’
আরাবুলকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া জট কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত বামফ্রন্ট-আইএসএফ জোট হয়, না কি দু পক্ষের সংঘাত আরও বাড়বে, তা আগামী কয়েকদিনেই স্পষ্ট হয়ে যাবে৷
