এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর অভিযানকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় যাতায়াত ও গতিবিধি খতিয়ে দেখতেই এই ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শেক্সপিয়র সরণি থানায় দায়ের হওয়া জোড়া এফআইআরের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ।
বৃহস্পতিবার সকালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক-এর সেক্টর ফাইভের দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালায়। দুপুর ১২টা নাগাদ ইডির আধিকারিকেরা তল্লাশি চালানোর সময়ই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, সেখান থেকে বেশ কিছু ফাইল ও ল্যাপটপ নিজের গাড়িতে তুলে নেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর প্রতীকের বাড়ি থেকে তিনি সরাসরি যান আইপ্যাকের সেক্টর ফাইভের দফতরে। সেখান থেকেও কিছু নথি মুখ্যমন্ত্রীর গাড়িতে রাখা হয় বলে অভিযোগ। বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে আইপ্যাকের দফতর থেকে বেরোন মুখ্যমন্ত্রী।
advertisement
বন্দে ভারত স্লিপার কোন কোন জেলার উপর দিয়ে যাবে? কত ভাড়া? পশ্চিমবঙ্গের রেল পরিকাঠামোয় বড় সংযোজন
তেলে ভরপুর ভেনেজুয়েলা, তবু মুদ্রা এত দুর্বল কেন? জেনে নিন, সেখানে ১০ হাজার ভারতীয় টাকার মূল্য কত?
ইডির ওই অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের নির্বাচনী কৌশল হরণ করা হয়েছে এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপনে চুরি করা হয়েছে। আইপ্যাকের দফতরের সামনে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রমণ শানান তিনি।
অন্যদিকে, তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে এই অভিযোগ তুলে ইডি আদালতের দ্বারস্থ হয়। ইডির দাবি, বেআইনি কয়লা পাচার মামলার সূত্রেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হয়েছে এবং এর সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নেই। পাশাপাশি, সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্তে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং জোর করে নথি ছিনতাই করা হয়েছে বলেও দাবি করে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।
আইপ্যাকের দফতরে ইডির অভিযানের পর কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই মামলায় আইপ্যাক ও ইডি—দু’পক্ষকেই যুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার কলকাতা হাই কোর্টে ইডি ও তৃণমূলের করা দুই মামলারই শুনানি হওয়ার কথা।
প্রাথমিক তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার সময় কারা ওই এলাকায় উপস্থিত ছিলেন, কোনও সন্দেহজনক গতিবিধি ছিল কি না এবং তল্লাশি চলাকালীন পরিস্থিতির ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে। তদন্তের স্বার্থে সংগৃহীত ফুটেজগুলি খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করছে কলকাতা পুলিশ। আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ও অফিসে যে ভাবে ইডি তল্লাশি অভিযান চালালো তা ‘অনৈতিক‘। শুধু তাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে নিয়েছে ইডি। এই অভিযোগ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। তবে, বসে নেই ইডিও। তারাও মামলা করছে হাইকোর্টে।
এদিকে, প্রতীক জৈনের বাড়িতে গতকাল ডিসি সাউথ পৌঁছোনোর পর ইডি আধিকারিকদের সাথে তিনি যখন কথা বলছিলেন, পুরো বিষয়টি ভিডিও করে রাখা হয়েছে ইডির তরফে । সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই দিল্লির সদর দফতরে উচ্চ পদস্থ আধিকারিক ও লিগ্যাল সেলের কাছে পাঠানো হয়েছে।
