পূর্ব রেল মালদহ টাউন, দুর্গাপুর, শঙ্করপুর, পাকুড় এবং খানা—এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বড় ধরনের ইয়ার্ড রিমডেলিং বা বিন্যাসের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। এই উন্নতির ফলে স্টেশনে ট্রেনের প্রবেশ ও প্রস্থানের সময়কার বাধা বা ‘বটলনেক’ দূর হবে, যার ফলে যাত্রীদের আউটার সিগন্যালে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার ভোগান্তি কমবে। এছাড়া, নিরাপত্তা ও লাইনের ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য চারটি ইন্টারমিডিয়েট ব্লক সিগন্যালিং (IBS) ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই নতুন সিগন্যালিং ব্যবস্থাগুলি এখন টিকানি ও ধৌনির মধ্যে সাঁঝা হল্ট, ধৌনি ও বরাহাটের মধ্যে পুনসিয়া হল্ট, মন্দারহিল ও হাঁসডিহার মধ্যে দানরে হল্ট, এবং মানিগ্রাম ও মহিপাল রোডের মধ্যে নোয়াপাড়া মহিষাসুর হল্টে কার্যকর রয়েছে।
advertisement
আটটি প্রধান মাল্টি-ট্র্যাকিং প্রকল্পের জন্য বিপুল বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রায় ৮,৩৮১.৯৯ কোটি টাকা আনুমানিক ব্যয়ে ৪৫৪ কিলোমিটারেরও বেশি পথ জুড়ে এই কাজ সম্পন্ন হবে। এর মধ্যে ডানকুনি-বাল্টিকুরি, মুরারই-বরহরওয়া, সাঁইথিয়া-পাকুড় এবং পাকুড়-গুমানির মতো উচ্চ-ঘনত্বের রুটে তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে রানাঘাট-কৃষ্ণনগর এবং ভাগলপুর-জামালপুর সেকশনের তৃতীয় লাইন, সেইসঙ্গে ভাগলপুর-দুমকা-রামপুরহাট এবং রানাঘাট-বনগাঁ সেকশনের ডবল লাইন (দ্বৈতকরণ) প্রকল্প। এই প্রকল্পগুলির লক্ষ্য হল বর্তমান সক্ষমতাকে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বাড়িয়ে এই অঞ্চলের যাত্রীদের জন্য একটি মসৃণ যাত্রা নিশ্চিত করা।
ভবিষ্যত সম্প্রসারণের কথা মাথায় রেখে পূর্ব রেল বেশ কিছু নতুন লাইন এবং ডবল লাইনের জন্য ফাইনাল লোকেশন সার্ভে (FLS) অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাজনগর ও বক্রেশ্বর ধাম হয়ে সিউড়ি-নালা নতুন লাইন, আরামবাগ-খানাকুল নতুন লাইন এবং চম্পাপুকুর-হাসনাবাদ ও লক্ষ্মীকান্তপুর-নামখানা সেকশনের দ্বৈতকরণ প্রকল্প।
পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানিয়েছেন যে, এই প্রকল্পগুলি রেল ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পরিবর্তনের জন্য একটি দৃঢ় অঙ্গীকার। তিনি উল্লেখ করেন যে, মাল্টি-ট্র্যাকিং এবং ইয়ার্ড রিমডেলিং-এ বিনিয়োগের মাধ্যমে রেল শুধুমাত্র লাইন বাড়াচ্ছে না, বরং যাত্রীরা যাতে দ্রুত এবং নিরাপদে তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন তা নিশ্চিত করছে। তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, ৮,০০০ কোটি টাকারও বেশি এই বিপুল বরাদ্দ পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের প্রান্তিক এলাকাগুলোকে উন্নত রেল পরিকাঠামোর মাধ্যমে যুক্ত করার ক্ষেত্রে সরকারের বিশেষ গুরুত্বকে তুলে ধরে।
