আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো পশ্চিমবঙ্গ জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের বোর্ড অফ ট্রাস্ট থেকে ইস্তফা দেন শুক্রবার। ট্রাস্টের সভাপতি পদে ছিলেন তিনি। বছরের প্রথম দিনেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসে। বুধবার বোর্ডকে লেখা চিঠিতে তিনি ইস্তফার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। সূত্রের খবর, জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের এগ্জ়িকিউটিভ কমিটিতে ভোটাভুটির মাধ্যমে সম্প্রতি ৩৭ জন নিয়োগ করা হয়ে। ট্রাস্ট এবং কমিটির মধ্যে দায়িত্ববণ্টন নিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত।
advertisement
আরও পড়ুনঃ বরফের চাদরে মুড়ল ছাঙ্গু লেক, বছরের শুরুতেই মরশুমের প্রথম তুষারপাত, খুশিতে ভাসছে পর্যটকরা
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালে কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ধর্ষণ-খুনের পর পথে নেমেছিলেন জুনিয়র ডাক্তারেরা। অনিকেত সেই আন্দোলনের প্রথম সারিতে ছিলেন। এমনকি, ন্যায়বিচারের দাবি ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো সংস্কারের দাবিতে অনশনও করেছিলেন।
ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের তরফে অনিকেতের এই পোস্টিং জয় হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তাঁরা বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, “আপনারা ইতিমধ্যে অবগত ছিলেন হাইকোর্টের দুই বেঞ্চ ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পরও দু-সপ্তাহের মধ্যে ডাঃ অনিকেত মাহাতোকে তার প্রাপ্য পোস্টিংয়ের জায়গা আর জি কর মেডিকেল কলেজে জয়েনিং অর্ডার না দেওয়ায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা করি। কিছুদিন আগেও যখন আমরা জবাব চাইতে স্বাস্থ্য ভবনে যাই তখন স্বাস্থ্য অধিকর্তারা বিশাল পুলিশি প্রহরা দিয়ে আমাদের প্রতিনিধিদলকে আটকে দেন, এবং আমাদের স্বাস্থ্যভবনে ঢুকতে অবধি দেওয়া হয় না। তখনই আমরা জানিয়ে এসেছিলাম আদালত অবমাননার জবাব যাতে তারা তৈরি রাখেন।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও রয়েছে, “অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার বাধ্য হয়েছে ডাঃ অনিকেত মাহাতোকে আরজি কর মেডিকেল কলেজে পোস্টিং দেওয়ার নোটিশ বার করতে।এই নোটিশটি আমরা আজ এখনই সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে পেয়েছি, যদিও নোটিশে উল্লিখিত তারিখ দেখে আমরা অত্যন্ত হতবাক। এই জয় কেবল ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট বা ব্যক্তি ডাঃ অনিকেত মাহাতোর নয়, এ জয় আপামর গণতন্ত্রপ্রেমী শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের জয় যারা প্রথম দিন থেকে এই সরকারের এই প্রতিহিংসামূলক ও তুঘলকি আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন তাদের সকলের জয়। এর সাথে বলে রাখা উচিত আমাদের বাকি দুই সহযোদ্ধা ডাঃ দেবাশিস হালদার ও ডাঃ আসফাকুল্লা নাইয়ার পোস্টিং পরিবর্তন সংক্রান্ত মামলাটিও হাইকোর্টের বিশ্বজিৎ বসুর বেঞ্চে নির্ধারিত ছিল , কিন্তু গত ০২.০১.২৬ তারিখে তিনি অবসর গ্রহণ করেছেন, এরপর এই মামলার শুনানি কোন বেঞ্চে চলবে তার আপডেট আমরা জানতে পারলেই সকলকে অবগত করব। সব শেষে বলার, এই আইনি জয় এক দৃষ্টান্ত তৈরি করল। যে কোনও জুনিয়র ডাক্তার এর উপর সরকার কোনো প্রতিহিংসামূলক ও বেআইনি কোনও আক্রমণ নামিয়ে আনলে ওয়েস্ট বেঙ্গল জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট সর্বতভাবে তার বিরুদ্ধে লড়বে, অথবা তার লড়াইয়ের পাশে সর্বোচ্চ ভাবে থাকবে।”
