কলকাতা: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ বিজেপিতে নতুন করে সক্রিয় হতে দেখা যাচ্ছে দিলীপ ঘোষকে৷ সম্প্রতি অমিত শাহের বঙ্গ সফরে আসার সময় নিউটাউনের অভিজাত হোটেলে বঙ্গের প্রথমসারির নেতানেত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি৷ সেই বৈঠকে আমন্ত্রিত ছিলেন দিলীপ ঘোষও৷ দলের সঙ্গে দীর্ঘ দূরত্বের পরে অবশেষে মিলেছিল বরফ গলার ইঙ্গিত৷ তবে শাহী বৈঠকে কী কথা হয়েছিল দু’জনের, সে ক’থা অবশ্য জানাননি দিলীপ৷ জানিয়েছিলেন, ‘‘যা বলার দল বলবে।’’ ২০২৬ সালের ভোটের আগে রাজ্য বিজেপির কোনও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে দেখা যাবে তাঁকে? দিলীপ ছিলেন সেখানেও সতর্ক। বলেছিলেন, ‘‘সেটা দল বুঝবে।’’
advertisement
শনিবারের প্রাতর্ভ্রমণেও সময়েও দেখা যায় খানিক সাবধানী দিলীপকে৷ সংযত, সংক্ষিপ্ত উত্তর৷ আদও কি দিলীপোচিত? সাংবাদিকেরা নেতাকে প্রশ্ন করেন, ‘‘বেশি কথা বলতে বারণ আপনাকে?’
দিলীপ ঘোষের সাবধানী উত্তর, ‘‘পার্টি যা বলবে সেটাই সর্বোপরি। যাঁরা নীতি নির্ধারক তাঁরাই পরামর্শ দেবেন। আমি পার্টির বাইরে নই। আমি যবে থেকে রাজনীতি করছি প্রেস মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলি। আমি আমার বক্তব্য বলি। পার্টির কিছু বক্তব্য থাকে। মুখপাত্ররাও সেসব বলেন। স্থানীয় ঘটনা বা বিশেষ পরিস্থিতি নিয়ে আমি মিডিয়ায় আলোচনা করি। দলের স্ট্র্যাটেজি বা পরিকল্পনা নিয়ে দলের কে মুখ খুলবে সেটা দলে আগে থেকেই ঠিক করা আছে।’’
এদিন শুভেন্দু অধিকারী এবং হুমায়ূন কবির নিয়েও তেমন কোনও মন্তব্য করতে দেখা যায়নি তাঁকে৷ দিলীপের কথায়, ‘‘আমি কারুর নাম করে কিছু বলিনি। কোনোদিন বলব না। কে পারবে না; কে পারবে! আমি বলব না। পার্টি যেটা ঠিক করবে সেটাই হবে।’’
এদিন, ফের ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের অন্দরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান রাখার পক্ষে সওয়াল করতে দেখা যায় তাঁকে৷ আগামী সোমবর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অফিসে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে বৈঠক। সে বিষয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে বিজেপি নেতার মন্তব্য, ‘‘আমরা বারবার দাবি করেছি যাতে বুথের ভিতর বাহিনী থাকে। ওরা দাঁড়িয়ে থাকে রাস্তায়। ভোট লুটপাট হয়, বুথের ভিতরে। আমাদের সামনেই এই ঘটনা অনেকবার ঘটেছে। এবার যদি সত্যিই অন্যরকম কিছু হয় তাহলে মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে যাবে। তাহলে তৃণমূলের টেকা মুশকিল।’’
