ছাব্বিশের নির্বাচনের আগেই আবার সক্রিয় রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরেছেন দিলীপ ঘোষ। ছাব্বিশের নির্বাচনে নিজের দল বিজেপির হয়েই পছন্দের আসন খড়্গপুর থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন দিলীপ ঘোষ। নিউজ18 নেটওয়ার্কের এডিটর ইস্ট, বিশ্ব মজুমদারকে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে সোজাসাপটা দিলীপ ঘোষ! ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে বঙ্গে বিজেপি-র ভোটার তালিকার একাংশ! সেখানে কোনও তারকা নেই, অন্য কোনও দল থেকে আসা প্রার্থী নেই! কেন? উত্তরে দিলীপ বলেন, ” যখন নদীতে জল থাকে, তখন সব ভাল লাগে। যখন ভাটা পড়ে, তখন নৌকা আটকে যায়। ভরা নদীতে নৌকো সবাই চায়! এখন ভরা নেই, তাই এরকম মনে হচ্ছে। কেন জোয়ার এসেছিল? কি কারণে? কার কারণে? ভাবার দরকার আছে।”
advertisement
রবিঠাকুরকে উদ্ধৃত করে দিলীপ বলেন, ”রথ ভাবে আমি দেব, পথ ভাবে আমি, মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসেন অন্তর্যামী”… যখন টিম জিততে থাকে, হইহই চলে। যখন টিম হেরে যায়, তখন দোষারোপ শুরু হয়। কোথায় দোষ ছিল, বোঝা যায়। তখন আমরা বুঝতে পারিনি, যা হচ্ছে, ঠিক হচ্ছে না হয়তো! তাই এবার বাদ দেওয়া হয়েছে।”
ছাব্বিশের ফল কী হতে যাচ্ছে? দিলীপের কথায়, ” ভোট আসছে। প্রধানমন্ত্রীর সভা হয়ে গেল। পার্টির মধ্যে উচ্ছ্বাস আছে। ইলেকশনে মাটিতে লড়াই করতে হয়। সভা-সমিতিতে শুধু শক্তি প্রদর্শন হয়। লোকসভার আগে সিপিআইএম তো ব্রিগেডে বিশাল সমাবেশ করেছিল। রেজাল্ট কী হল? জিরো!”
তার মানে, ব্রিগেড ভরিয়ে সবটা হয়? ” না! জনসভা সূচক নয়।” মত দিলীপের! তাঁর ভাষায়, ” জ্যোতি বসু যেতেন, লোকে দেখতে আসত, চলে যেত। রাজীব গান্ধির সভা আমি নিজে দেখতে গিয়েছি। তখন কংগ্রেসের একটু ভাল অবস্থা ছিল। বিশাল সভা। রাজীব গান্ধি এলেন, লোকে তাঁর ভাষণ শুনল, তার পর হাঁটতে আরম্ভ করল। বেশিরভাগ বড় সভাতেই এটা হয়। হ্যাঁ এটা বোঝা যায় পার্টিতে এখনও শক্তি আছে। রাজনীতি বা নির্বাচন অন্য জিনিস। সেটা আমরা দেখেছি, সভা না করেও অনেক পার্টি জেতে।”
এবারের ভোট নিয়ে আপনি কতটা আশাবাদী? দিলীপের মতে, ” আমি তো আশা নিয়েই এত দূর এগিয়েছি। আমি হতাশ হওয়ার লোক নয়। কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ দেখি, তাঁদের শরীরি ভাষা বুঝিয়ে দেয়, তাঁরা পরিবর্তন চাইছে। কিছু ঘটনা গত ২-৩ বছরে ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে যেটা সাধারণ মানুষ… গ্রাম, শহর নির্বিশেষে মানুষকে নাড়া দিয়েছে। গায়ের চোট লাগলে ভিতরে ব্যথা থাকে। শরীর দুর্বল হলে সেটা বার হয়। আমাদের ভারতীয়দের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য হল, আমরা সহজে রিআ্যাক্ট করি না। আমরা রেভেলিউশন করি না, এভেলিউশন করি। সেটা আরজি করের ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গের নানা প্রান্তে হয়েছে। আমি নিজে নিউটাউনে সেই ছবি দেখেছি। এমনিতে নিউটাউনে লোকজন সেভাবে দেখা যায় না। কিন্তু রাত একটার সময় প্রায় ২০ হাজার লোক বিশ্ববাংলা গেটের নীচে উপস্থিত হয়েছিলেন। সেই দৃশ্য অভূতপূর্ব, কল্পনা করা যায় না। সেই লোকগুলো আরজি কর কাণ্ড ভুলে যাবে না। মনে থাকবে। শুধু সুযোগের অপেক্ষা। পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।”
এসআইআর, বর্তমানে গ্যাসের সংকট কোনও ইস্যু হবে না? ” নিশ্চয়ই ইস্যু হবে। গ্যাসের সংকট কীসের জন্য? লড়াই হয়েছে বলে। মোদি সরকার তো লড়াই করেনি। যাদের কাছে ইস্যু নেই, তারা তেল-গ্যাস নিয়ে লড়াই করে। তেল গ্যাসের দাম তো ১০ বছর বাড়েনি। হঠাৎ একটা ইস্যু পাওয়া গিয়েছে যুদ্ধের জন্য। নিশ্চয়ই এতে কষ্ট হচ্ছে মানুষের। তার জন্য কোথায় প্রতিবাদ করা উচিৎ? যাও রাষ্ট্রসংঘে, যাও আমেরিকান এম্ব্যাসির সামনে ধরনায় বসো। ধর্মতলায় বসে কী লাভ হবে?
